পশুপালন-নির্ভর জীবনব্যবস্থা, প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতি, সাধারনের যৌথ সম্বল/সম্পদ এবং রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের এর আলোকে মঙ্গোলিয়ার UNCCD COP17
মতামত/বিশ্লেষণ

পশুপালন-নির্ভর জীবনব্যবস্থা, প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতি, সাধারনের যৌথ সম্বল/সম্পদ এবং রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের এর আলোকে মঙ্গোলিয়ার UNCCD COP17

এই নিবন্ধটি মঙ্গোলিয়ার UNCCD COP17 সম্মেলনে পশুপালন-নির্ভর জীবনব্যবস্থা, প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতি, যৌথ সম্পদ এবং রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের আলোকে আলোচনা করে। এটি দেখায় কিভাবে আধুনিক উন্নয়ন ধারণা পশুপালকদের প্রান্তিক করে তুলেছে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে তাদের জীবনযাত্রা একটি বাস্তুতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। নিবন্ধটি পশুপালনের গতিশীলতা, তৃণভূমির অর্থ এবং যৌথ সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে পশুপালনের প্রাসঙ্গিকতা এবং জলবায়ু নীতির সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিশ্লেষণ করে।

আলোচনা 0 মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

সবার আগে আলোচনায় যোগ দিন।

মতামত/বিশ্লেষণ

পশুপালন-নির্ভর জীবনব্যবস্থা, প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতি, সাধারনের যৌথ সম্বল/সম্পদ এবং রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের এর আলোকে মঙ্গোলিয়ার UNCCD COP17

পশুপালন-নির্ভর জীবনব্যবস্থা (Pastoralism), প্রবৃদ্ধি-বিমুখ অর্থনীতি (Degrowth), সাধারনের যৌথ সম্বল/সম্পদ (Property of Commons) এবং রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের (Political Ecology) আলোকে মঙ্গোলিয়ার UNCCD COP17

"We do not inherit the Earth from our ancestors. We borough it from our Children"

-- Old African proverb

WhatsApp Image 2026-09-07 at 14.16.09

ভূমিকা: ‘উন্নয়ন’-এর বাইরে থাকা মানুষগুলিই কি ভবিষ্যতের মানুষ?

আধুনিক উন্নয়নের ইতিহাস মূলত স্থিরতার ইতিহাস। মানুষকে স্থায়ী বসতিতে আনতে হবে, জমিকে স্থায়ী কৃষিজমিতে পরিণত করতে হবে, পশুপালনকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, নদীকে বাঁধতে হবে, বনকে ‘উৎপাদনশীল’ করতে হবে এবং ভূমিকে তার সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ব্যবহারে নিয়ে যেতে হবে—এই ছিল উন্নয়নের আধুনিক যুক্তি।

এই যুক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে পশুপালনের ঋতু, জল, ঘাস ও পশুর গতিবিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এক জীবনব্যবস্থা।

দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র এবং মূলধারার অর্থনীতি,- পশুপালক গোষ্ঠীকে (pastoralist communities) ‘পিছিয়ে পড়া’, ‘যাযাবর’, ‘অনুৎপাদনশীল’ অথবা উন্নয়নের মূল স্রোতের বাইরে থাকা মানুষ হিসেবে দেখেছে।

কিন্তু আজ জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং বাস্তুতান্ত্রিক ক্ষয়/পতন-এর যুগে সেই ধারণাই প্রশ্নের মুখে।

২০২৬ সালের United Nations Convention to Combat Desertification এর Conference of Parties (UNCCD COP17), মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারে এই প্রশ্নটিকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ-রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ২৬ আগস্টের Down To Earth প্রতিবেদন “Rise and Rage of Pastoralists”-এ যে চিত্রটি উঠে এসেছে, তা কেবল পশুপালকদের অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস নয়; এটি উন্নয়নের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে একটি বাস্তুতান্ত্রিক বিকল্প ভাবনা বা ecological counter-narrative।

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক স্থলভাগ চারণ/তৃণভূমি প্রায় ১.৪ বিলিয়ন হেক্টরস রেঞ্জল্যান্ড পাস্তোরালিস্টস-এর ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ এই ইকোসিস্টেম এর ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। একই সময়ে রেঞ্জল্যান্ড বা চারনভূমি দ্রুত কৃষিজমিতে রূপান্তর ও অবকাঠামো বৃদ্ধির চাপে হারিয়ে যাচ্ছে।

তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু—

“Pastoralists পশুপালকগণ কীভাবে বাঁচবেন?” তা নয়।

প্রশ্নটি আরও বড়: “জলবায়ু সংকট-এর পৃথিবী কি পশুপালকদের কাছ থেকে বাঁচার কোনও নতুন পদ্ধতি শিখতে পারবে?”

১. পশু-পালন (Pastoralism): একটি পেশা নয়, একটি ecological civilisation বা বাস্তুতান্ত্রিক সভ্যতা। তাই পশুপালনকে livestock rearing বা গবাদি পশু লালন পালনের সমার্থক ভাবলে তার আসল চরিত্রটি বোঝা যায় না।

একজন পশুপালক কেবল পশু পালন করেন না। তিনি একটি ভূ-তটের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।

কোথায় কখন ঘাস জন্মায়, কোন জলাধার কখন শুকিয়ে যায়, কোন পথ বর্ষায় ব্যবহারযোগ্য, কোথায় অতিরিক্ত চারণ করা যাবে না, কোন পশুর কোন্ রোগ হচ্ছে, কখন স্থানান্তর (migration) করতে হবে, এই জ্ঞান কোনও টেক্সটবুক থেকে আসে না। এটি আসে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চিত পরিবেশগত শিক্ষা ও স্মৃতি থেকে। পশুপালক গোষ্ঠীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তাই পরিযান।

স্থির কৃষি ব্যবস্থায় জমিকে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়।

পশুপালন- এ বরং মানুষ ইকোসিস্টেম-এর পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করে।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি স্থির অর্থনীতি প্রকৃতিকে স্থির রাখতে চায়।

যাযাবর পশুপালন অর্থনীতি প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে চলতে শেখে। এই অর্থে পশুপালন পরিযান কোনও backwardness বা অনগ্রসরতা নয়। এটি একটি adaptive technology অর্থাৎ সহায়ক প্রযুক্তি।

WhatsApp Image 2026-09-07 at 14.16.09 2

২. গতিশীলতা (Mobility) বনাম আধুনিক উন্নয়ন (modern development):

আধুনিক রাষ্ট্রের কাছে গতিশীলতা প্রায়ই প্রশাসনিক সমস্যা। যে মানুষ এক জায়গায় থাকে না তাকে করদাতা (tax) করা কঠিন, গণনা(census) করা কঠিন, সম্পত্তির সত্ব (land title) দেওয়া কঠিন, শিক্ষা (schooling) ও স্বাস্থ্যের অবকাঠামো (health infrastructure) স্থাপন করা কঠিন। ফলে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে পশুপালককে বসতি স্থাপন করাই উন্নয়নের স্বাভাবিক পথ হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানে একটি স্ববিরোধিতা (paradox) আছে।

"যে গতিশীলতা রাষ্ট্রের কাছে প্রশাসনিক অসুবিধা (administrative inconvenience), সেটিই বাস্তুতান্ত্রিক পদ্ধতির কাছে হতে পারে সহনশীলতা বা প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দের সাথে ভারসাম্য রাখার পদ্ধতি।

ক্ষরা হলে পশুপালকগন পথ পরিবর্তন করতে পারেন। একটি চারণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যত্র যেতে পারেন। বৃষ্টির ধরন বদলালে পরিযায়ী পথ বদলাতে পারেন। অর্থাৎ জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতা বা climate variability-র বিরুদ্ধে পশুপালকদের একটি অন্ত:নির্মিত অভিযোজিত ক্ষমতা (built-in adaptive capacity) রয়েছে। এবং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে অত্যন্ত মূল্যবান।

৩. তৃণভূমি কি ‘খালি জমি’?:

Political ecology-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—জমির অর্থ কে নির্ধারণ করে?

একটি তৃণভূমি পশুপালকদের কাছে হতে পারে:

খাদ্যের উৎস,

পশুখাদ্যের সাধারণ স্থান,

জলসংগ্রহের অঞ্চল,

সাংস্কৃতিক অঞ্চল যা পবিত্র,

পরিযান পথ,

জীববৈচিত্র্যের বাসস্থান,

এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবিকা সুরক্ষা।

কিন্তু একই জমি যেখানে রাষ্ট্রের উন্নয়নের মানচিত্র হতে পারে:

পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত জমি।

তারপর সেই জমি কৃষিকার্য, খনি, কারখানা রাস্তা রেলপথ এবং পর্যটন অথবা বৃহৎ অবকাঠামর জন্য বরাদ্দ করা যায়।

এখানেই রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের দ্বন্দ্ব শুরু। কারণ প্রশ্নটি শুধু জমির মালিকানা নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হল,

কোন জ্ঞানব্যবস্থা জমিকে মূল্যবান বলে ঘোষণা করার অধিকার রাখে? উপগ্রহ মানচিত্র যদি বলে একটি জায়গায় ‘কম উৎপাদনশীল, কিন্তু পশুপালকগন যদি জানেন যে সেই জায়গাটি খরার সময় পশুর বাঁচার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে কোন জ্ঞানটি নীতি নির্ধারণে প্রাধান্য পাবে?

৪. সাধারনের সম্বল/সম্পদ: যে সম্বল/সম্পদ কারও একার নয়।

পশুপালন অর্থনীতিকে বোঝার জন্য property of commons বা সাধারনের সম্বল/সম্পদ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণভূমি, জলগর্ত বা জলাধার, চারনক্ষেত্র, অরণ্যপ্রান্তর, এসব অনেক পশুপালক গোষ্ঠীতে দীর্ঘদিন ধরে সমবায় প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে। সাধারণ/ যৌথ সম্পদের অর্থ ‘free for all’ নয়। বরং এর অর্থ হল— অভিন্ন নিয়মে পরিচালিত যৌথ সম্পদ(shared resource governed by shared rules)।

কে কখন grazing করবে, কত পশু grazing করতে পারবে, কোন season-এ কোন অঞ্চল বন্ধ থাকবে—এই নিয়মগুলি সমবায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতি যৌথ সম্পদকে প্রায়ই দুটি পথে ভাঙে।

একদিকে বেসরকারিকরণ যেখানে, জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, যেখানে, গোষ্ঠী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আসে।

উভয় ক্ষেত্রেই পশুপালকদের প্রথাগত অধিকার (customary rights) দুর্বল হতে পারে।

এখানেই এলিনোর অস্ট্রম (Elinor Ostrom)-এর সমবায়/যৌথ পরিচালনার ধারণা pastoralism-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ theoretical connection তৈরি করে যে, Commons মানেই tragedy নয়।অনেক ক্ষেত্রে community governance-ই resource sustainability-র ভিত্তি হতে পারে।

[Elinor Ostrom ছিলেন একজন মার্কিন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষক, যিনি সামষ্টিক সম্পদ বা Common-Pool Resources (CPR) কীভাবে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে—তা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তিনি ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন এবং ২০০৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার লাভ করেন। অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া প্রথম নারী ছিলেন তিনি।তাঁর গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল—জল, বন, মৎস্যসম্পদ, চারণভূমি ইত্যাদি যৌথ সম্পদ কি কেবল রাষ্ট্র বা বেসরকারি মালিকানার মাধ্যমেই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে?]

অস্ট্রমের গবেষণা দেখায়, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিজেরাই সুনির্দিষ্ট নিয়ম, পারস্পরিক আস্থা, নজরদারি এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে যৌথ সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারে।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Governing the Commons: The Evolution of Institutions for Collective Action (1990)-এ তিনি এই ধারণাগুলিকে সুসংবদ্ধভাবে তুলে ধরেন।

তাঁর ভাবনার কেন্দ্রে ছিল “Shared resource governed by shared rules”

“সবার যৌথ সম্পদ, সবার সম্মিলিত নিয়মে পরিচালিত।” অর্থাৎ, অস্ট্রমের কাছে Commons মানে শুধু “সবার সম্পদ” নয়; বরং এমন একটি সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যেখানে একটি জনগোষ্ঠী নিজেদের তৈরি ও মান্য করা নিয়মের মাধ্যমে সম্পদের ব্যবহার, অধিকার ও সংরক্ষণ পরিচালনা করে।এই কারণেই তাঁর চিন্তা আজ জল, নদী, বন, চারণভূমি, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশগত অবকাঠামো নিয়ে আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।]

৫. Degrowth: প্রশ্নটি ‘কম’ নয়, ‘কীভাবে’

Degrowth-এর সঙ্গে পশুপালনের সম্পর্ক এখানেই গভীর। Degrowth-এর মূল প্রশ্ন GDP কমানো নয়।

মূল প্রশ্ন: অসীম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Unlimited economic growth) কি একটি সীমিত সম্পদযুক্ত গ্রহ (finite planet)-এর মধ্যে সম্ভব? যদি না হয়, তবে আমাদের উন্নয়নের ধারণা পুনর্গঠন করতে হবে।

পশুপালন বা Pastoralism সেই পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ lens।

পশুপালন অর্থনীতির লক্ষ্য সাধারণত প্রতিটি বর্গ কিলোমিটার থেকে সর্বাধিক জৈব বস্তু উৎপাদন নয়।

বরং লক্ষ্য হল, ভূতটের বাস্তুতান্ত্রিক বহন ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব রক্ষা বা টিকে থাকা। এখানে উৎপাদনশীলতা এবং স্থায়িত্ব এক জিনিস নয়।

একটি ফ্যাক্টরি গবাদীপশু উৎপাদন ব্যবস্থা হয়তো বেশি মাংস উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হবে:

কত জল লাগছে? কত খাদ্য? কত জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel)? কত জমি? কত কার্বন? কত বায়োদিভার্সিটি লস? এবং কত বাস্তুতান্ত্রিক ঋণ (ecological debt)? Degrowth ঠিক এই জায়গাটিতেই প্রচলিত অর্থনীতিকে প্রশ্ন করে।

৬. কার্বন মার্কেট কি পশুপালনকে নতুন করে উচ্ছেদ করবে?

এখানে একটি নতুন বিপদের সম্ভাবনাও আছে।

Climate policy এখন কার্বন সংরক্ষণ (sequestration)-এর মূল্য আবিষ্কার করেছে।

চারণভূমির মৃত্তিকা জৈব্য কার্বন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Down To Earth প্রতিবেদনে ২০২০ সালে পশুপালক নিয়ন্ত্রিত চারণভূমি (pastoralist-controlled rangelands) তে প্রায় 44 বিলিয়ন টন সয়েল অর্গানিক কার্বন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু carbon-এর অর্থনৈতিক মূল্য যত বাড়বে, জমির ওপর কর্পোরেট এবং রাষ্ট্রের আগ্রহও তত বাড়তে পারে। ফলে যে land একসময় ‘wasteland’ ছিল, সেটিই হয়ে উঠতে পারে, carbon land।

এখানে একটি নতুন প্রশ্ন উঠে আসে; পশুপালকগন কি কার্বন অর্থনীতির beneficiary বা সুবিধাভোগী হবেন, নাকি কার্বন অর্থনীতির জন্য তাঁদের জমি আবার দখল হবে?

এ কারণেই পশুপালকদের অধিকার এবং জলবায়ু নীতি (climate policy)-কে আলাদা করা যায় না।

৭. Conservation-এর স্ববিরোধ (paradox):

সংরক্ষণ-এর ইতিহাসেও পশুপালকদের সঙ্গে একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে।

ঔপনিবেশিক এবং পরবর্তী সংরক্ষণ পদ্ধতি (conservation model)-এ প্রকৃতিকে প্রায়ই মানুষশূন্য মরুভূমি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।

জাতীয় উদ্যান (National park) তৈরি হল।

সংরক্ষিত বনাঞ্চল (Forest reserve) তৈরি হল।

পশুচারণ নিষিদ্ধ হলো নিষিদ্ধ হল। পরিযান পথ বন্ধ হল। পশুপালক হঠাৎ করে দখলদার ঘোষিত হলো।

কিন্তু ভূতটের বাস্তুতান্ত্রিক ইতিহাস ecological history অনেক বেশি জটিল। অনেক চরণভূমি ইকোসিস্টেমই মানুষের পশুচরণ কার্যের সঙ্গে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সহ-বিবর্তন (co-evolve) করেছে।

তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয় যে, “How do we keep people out of nature?” আমরা কিভাবে মানুষকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখবো? বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত “How do we understand the ways in which people are already part of ecological systems?” প্রকৃতির সাথে মানুষ কিভাবে বসবাস করছে সেটা কিভাবে বুঝব বা জানবো?

চিন্তার এই পরিবর্তন সংরক্ষণ চিন্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. Climate justice-এর প্রশ্ন:

পশুপালকগণ জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী মানুষদের মধ্যে পড়েন। তাঁদের carbon-intensive lifestyle নেই। তাঁদের ব্যয় পদ্ধতি শিল্প সমাজের মতো নয়। তবুও জলবায়ু পরিবর্তন তাঁদের ওপর বড় আঘাত হানছে। অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ নেপাল।

খরা বাড়ছে।

পানীয় জলের উৎস বদলাচ্ছে।

তৃণভূমি উৎপাদন পরিবর্তিত হচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী অভিভাসন পথ Traditional migration routes বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে বৃহৎ অবকাঠামো গঠন, খনন এবং শিল্পভিত্তিক কৃষির পরিসর এবং জমির উপর তার চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

এটি climate justice-এর classic প্রশ্ন:

যারা crisis তৈরি করেনি, তারাই কেন crisis-এর সবচেয়ে বড় cost বহন করবে? [সাম্প্রতিক বন্যার জন্য নেপাল সরকার ক্ষতিপূরণ দাবী করেছে বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশের থেকে ]

পশুপালকদের দাবি তাই শুধু livelihood claim বা জীবিকা নির্বাহ নয়। এটি বিভাজক/বন্টন মূলক ন্যায়বিচার (distributive justice) + স্বীকৃতিমূলক ন্যায়বিচার (recognition justice) + বাস্তুতান্ত্রিক ন্যায়বিচার (ecological justice), এই তিনটির সমন্বিত দাবি।

৯. ভারতের পশুপালক গোষ্ঠী: গুজ্জর থেকে মালধারী ইত্যাদি গোষ্ঠীর জন্য মঙ্গোলিয়ার pastoralist debate ভারতের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গুজ্জর, বাকরাওয়াল, গড্ডি, ভন-গুজ্জর, রাইকা, মালধারী এবং অন্যান্য পশু পালক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে seasonal mobility বা স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের জীবনকে শুধু প্রাণিসম্পদ অর্থনীতি (livestock economy) হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাঁদের অভিবাসন পথের সঙ্গে যুক্ত:

বন → চারণ/তৃণভূমি → জল → জীববৈচিত্র → কৃষি → গ্রামীণ অর্থনীতি

অর্থাৎ পশুপালন চারনভূমি চক্রাকার বাস্তুতন্ত্র এর একটি অংশ।

কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প, প্রকল্প সংরক্ষিত অঞ্চলের নিয়মাবলী, সীমানা, রাস্তা, ক্ষরণকার্য পর্যটন এবং ভূমি সংরক্ষণ তাঁদের গতিশীল জীবনেরকে ক্রমশ সংকুচিত করেছে। ফলে পশুপালংন সংকট কেবল দারিদ্র সংকট নয়। এটি পরিযান ক্ষেত্র হারানোর সংকট।

আর সদাগতিশীল প্রকৃতির মাঝে গতিশীলতা হারানো মানে বাস্তুতান্ত্রিক জ্ঞানের একটি অংশও হারানো।

১০. ‘Rise and Rage’: ক্রোধের রাজনৈতিক অর্থ

COP17-এ pastoralists-এর উপস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁদের visibility। ১০০টি দেশের পশুপালক প্রতিনিধিদের বিশ্ব পশুপালক ঘোষণা (Global Pastoralist Declaration) কোনও সাংকেতিক ঘটনা মাত্র নয়। এটি একটি রাজনৈতিক পরিচিতির দাবি। তাঁরা বলতে চাইছেন:

আমাদের নিয়ে পলিসি তৈরি করবেন না; আমাদের নীতি নির্ধারনের অংশ করুন।

এটি পরিবেশ গণতন্ত্রের একটি মৌলিক দাবি।

Pastoralist knowledge যদি climate adaptation-এর জন্য মূল্যবান হয়, তবে পশুপালকদের শুধু ‘beneficiaries’ হিসেবে দেখা যাবে না। তাঁদের হতে হবে, জ্ঞান সংরক্ষণকারী অধিকার সংরক্ষণকারী এবং নীতি নির্ধারক (knowledge holders, rights holders এবং decision-makers)।

এখানেই' প্রতিনিধিত্ব (participation) এবং প্রতিকী প্রতিনিধিত্ব (tokenism)-এর পার্থক্য।

একটি conference-এ pastoralist-কে আমন্ত্রণ জানানোই কেবল participation বা অংশগ্রহণ নয়।

তাঁর জমির অধিকার (land rights), অভিবাসনের অধিকার (mobility rights) এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা (decision-making power) নিশ্চিত করাই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব।

১১. Silk Road Caravan (রেশম পথের কাফিলা): একটি বিকল্প পরিবেশ রাজনীতি (alternative environmental politics)। UNCCD'র COP17-এর সঙ্গে যুক্ত Silk Road Caravan-এর মতো উদ্যোগের তাৎপর্য এখানেই।

পশুপালকগণ শুধু নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন না। তারা তাদের সভ্যতার বাস্তুতান্ত্রিক যুক্তিকে আন্তর্জাতিক policy discourse বা রাজনৈতিক বিচারধারাতে প্রবেশ করাতে চাইছেন। এটি একটি counter-public প্রতিবাদী জনসমাজ তৈরি করছে।

একদিকে রয়েছে রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, উন্নয়ন সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ-নির্ভর জলবায়ুর নীতি।

অন্যদিকে রয়েছে পশু পালন, আদি জনগোষ্ঠী, স্থানীয় বাস্তুতান্ত্রিক জ্ঞান এবং commons-based societies বা যৌথ-সম্পদ ভিত্তিক সমাজ। এই দুই জগতের সংলাপই আগামী দিনের পরিবেশগত সুশাসন (environmental governance)এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে।

WhatsApp Image 2026-09-07 at 14.16.10 3

১২. পশুপালন থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

পশুপালনকে রোমান্টিসাইস করার প্রয়োজন নেই।

প্রতিটি পশুপালন পদ্ধতি টেকসই এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু পশু পালন এর মধ্যে কয়েকটি প্রিন্সিপল আছে যা climate crisis-এর যুগে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রথমত, Mobility: স্থিরতার বদলে বাস্তুতান্ত্রিক পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে অভিযোজন।

দ্বিতীয়ত, Commons: সম্পদকে শুধু কমোডিটি না ভেবে যৌথ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে দেখা।

তৃতীয়ত, Local knowledge: বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানের সঙ্গে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এর সংলাপ।

চতুর্থত, সুফিসিয়েন্সি বা পর্যাপ্ততা: অসীম সঞ্চয়ের বদলে প্রয়োজনের সঙ্গে খরচের সামঞ্জস্য।

পঞ্চমত, আন্ত:প্রজন্মগত দায়িত্ব (Intergenerational responsibility): আজকের উৎপাদনের জন্য ভবিষ্যতের বাস্তগত ক্ষমতা নষ্ট না করা।

এই পাঁচটি principle degrowth-এর সঙ্গে একটি আশ্চর্যজনক মানসিক সংযোগ বা অনুরণন (intellectual resonance) তৈরি করে।

১৩. Development-এর নতুন প্রশ্ন:

গত দুই শতাব্দীর উন্নয়নের মূল প্রশ্ন ছিল: How much can we produce? জলবায়ু সংকট, Climate crisis সেই প্রশ্নকে বদলে দিচ্ছে। তাই নতুন প্রশ্ন হওয়া উচিত: How much can the ecosystem sustain?

আর তার সঙ্গে আরও তিনটি প্রশ্ন:

Who benefits?

Who pays the ecological cost?

Who decides?

এই তিনটি প্রশ্ন ছাড়া sustainable development বা টেকসই উন্নয়ন শব্দটি প্রায়ই উত্তরহীন (rhetorical) হয়ে যায়। পশুপালকদের আন্দোলন আমাদের সেই প্রশ্নগুলি নতুন করে করতে ভাবতে বাধ্য করছে।

ভারত অবশেষে তার ‘অনুর্বর জমি’-গুলিকে দিল একটি নাম ও একটি ভবিষ্যৎ। UNCCD COP17-এ প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকা ভারতের সবচেয়ে অবহেলিত কিছু বাস্তুতন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সূচনা করতে পারে। ২৫ আগস্ট উলানবাটার, মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত UNCCD COP17-এর পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে ভারতের “তৃণভূমি ও অন্যান্য উন্মুক্ত প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের প্রথম নির্দেশিকা” প্রকাশ করেছেন। ভারত প্রথমবারের মতো “ভারতের তৃণভূমি ও অন্যান্য উন্মুক্ত প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের নির্দেশিকা” (Guide to Grasslands and Other Open Natural Ecosystems of India) প্রকাশ করেছে। প্রথমবারের মতো তৃণভূমি, সাভানা, মরুভূমি, ঝোপঝাড়পূর্ণ ভূমি, খাত-উপত্যকা এবং পাথুরে মালভূমিকে একটি জাতীয় নথির মধ্যে নিজস্ব স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র হিসেবে একত্রিত করা হয়েছে—এমন ভূদৃশ্য হিসেবে নয়, যেগুলি কেবল ভবিষ্যতে বনভূমিতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলোচনায় একটি ব্যক্তিগত মাত্রা যোগ করেন।

তিনি রাজস্থানের আজমেরে তাঁর বেড়ে ওঠার কথা বলেন—চারণভূমি ও মরুভূমির ঝোপঝাড়পূর্ণ ভূদৃশ্যের মধ্যে। বাইরের লোকেরা এই অঞ্চলগুলিকে প্রায়ই “অনুর্বর জমি” (wasteland) বলে অবজ্ঞা করত। কিন্তু স্থানীয় সম্প্রদায় এই ভূদৃশ্যকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে বুঝত। প্রথাগত ব্যবস্থাগুলি, যেমন oran এবং gauchar, কেবল সাধারণ বা যৌথ ব্যবহারের কিছু জমি ছিল না। এগুলি ছিল একটি কার্যকর সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গ্রামগুলি চারণের জন্য এই জমিগুলির ওপর নির্ভরশীল ছিল; গবাদি পশু গ্রামীণ জীবিকাকে টিকিয়ে রাখত; এবং সম্প্রদায়গুলিও, তাদের পালাক্রমে, এই চারণভূমি রক্ষার নিয়ম মেনে চলতেন।

তিনি আরও বলেন, চারণ বা তৃণভূমির সাথে বনাঞ্চলের পার্থক্যটা চিহ্নিত করা জরুরী। কারণ আমাদের তৃণভূমিকে জঙ্গলের অংশ হিসেবেই দেখা অভ্যাস হয়ে গেছিল।

উপসংহার: Pastoralists কি ভবিষ্যতের মানুষ?:

মঙ্গোলিয়ার COP17-এ pastoralists-এর ‘ ক্ষোভ ’ তাই কোনও প্রান্তিক গোষ্ঠীর ক্ষোভ নয়। এটি আধুনিক উন্নয়ন-দর্শনের বিরুদ্ধে একটি গভীর ecological critique, বাস্তুতান্ত্রিক সমালোচনা।

তাঁরা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, সব উন্নয়ন প্রগতি নয়। সব গতিশীলতা(mobility) অনগ্রসরতা(backwardness) নয়।

সব সাধারণ সম্পদ অদক্ষতা নয়।

সব বৃদ্ধি কল্যাণ নয়।

এবং সব ঐতিহ্যগত জ্ঞান অতীতের জ্ঞান নয়।

জলবায়ু সংকট আমাদের তথাকথিত মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ধারণাগুলিকে প্রশ্ন করছে।

তার মধ্যে একটি হল—ভবিষ্যৎ মানেই অতীতকে অতিক্রম করা? সম্ভবত তা নয়। সম্ভবত ভবিষ্যতের কিছু উত্তর এমন সমাজের কাছে রয়েছে, যাদের আমরা এতদিন অপ্রগতিশীল বলে এসেছি।

Pastoralists বা পশুপালক সমাজ সেই সমাজগুলির অন্যতম। যাদের কাছে ইকোলজিকাল রেসিলিয়েন্স, কোনও নতুন নীতি নির্ধারক নয়। এটি তাঁদের জীবনযাত্রার অংশ। তাঁদের কাছে অভিযোজন (adaptation) কোনও জলবায়ু অর্থনীতি পরিকল্পনা নয়। এটি প্রতিদিনের বেঁচে থাকার কৌশল। তাই পশুপালকদের দাবি আমাদের সামনে একটি গভীর সভ্যতাগত প্রশ্ন রাখে:

"আমরা কি এমন একটি অর্থনীতি চাই যা প্রকৃতিকে বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাবে, নাকি এমন একটি অর্থনীতি চাই যা নিজের প্রয়োজনকে বাস্তুতান্ত্রিক সীমারেখার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে?

ঠিক এই প্রশ্নের উত্তরেই pastoralism, political ecology এবং degrowth এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়।

আর ভাবায়, পশুপালকগণ হয়তো অতীতের মানুষ নন। হয়তো তাঁরা আমাদের ভুলে যাওয়া ভবিষ্যতের মানুষ।

ছবি সৌজন্য - DOWN TO EARTH

আলোচনা 0 মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

সবার আগে আলোচনায় যোগ দিন।

আমাদের লক্ষ্য

আমরা নিজেদেরকে “প্রতিরোধের গণমাধ্যম” হিসেবে দেখি।

জীবের বহুসংকটকে, জীবের বহুদুঃখকে আমরা মধ্যমপ্রতিপদের অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করি, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, এবং বৃহত্তর বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন ও বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি জোটের সাথে হাত মিলিয়ে তাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

যোগাযোগ করুন

ইমেল: thedegrowthofficial.com