"কেন–বেতওয়া নদী সংযোগ" প্রকল্পের আলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাসচর্চা (Subaltern Studies): পরিবেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিদ্যার আন্তঃসম্পর্ক
"আমরা যদি একবার এই জায়গা ছেড়ে দিই, অন্য কোনোখানে এমন জীবন পাবো না", "হামে কিঁউ উজাড় রহে হো", "হাম সব বিছড় যাউগো, ফির কিসকো কাকা কহুবো", "হামে জিনা নেহি হ্যায়"। বলছেন, প্রস্তাবিত দোধন গ্রামের বাসিন্দা মুন্নি লাল।
"আমরা আমাদের জঙ্গলের বদলে জঙ্গল চাই, জলের বদলে জল, জমির বদলে জমি ও গ্রামের বদলে গ্রাম", বলছেন, মধ্যপ্রদেশের মৈনারি গ্রামের জয়ন্তী বাই।
দোধন গ্রামের ৫০ উর্দ্ধ সিয়া রানি বলছেন, 'কেন' নদী উপত্যকায় আমাদের বহুযুগের বাস, এটা আমাদের জন্মভূমি, ধরিত্রী মাতা। যদি যেতেই হয় সবাই মিলে যাবো নয়তো সবাই মিলে মরবো।
অপর একটি গ্রাম নৌড়লির বাসিন্দা ৫৩ বছরের কেসর বাইয়ের দাবি, "আমাদের একই মহুয়া গাছ, একই চারোয়া চাই"। (সৌজন্য The Hindu, ১৯ আগস্ট, ২০২৬)

অনেক প্রশ্নের মাঝে আর একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক: কেন নদীকে শুধু ‘জল’ হিসেবে দেখা হবে? "কেন–বেতওয়া নদী সংযোগ" প্রকল্পকে বোঝার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল: 'কেন' নদীর জল কার?
প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বেশ সরল:
'কেন' নদী → উদ্বৃত্ত জল → দৌধন বাঁধ → খাল → 'বেতওয়া' অববাহিকা, কিন্তু পরিবেশের ইতিহাস বা Environmental History-এর দৃষ্টিতে নদী শুধু কিছু ঘনমিটার জল নয়।
নদী আসলে একটি সম্পূর্ণ বস্তুগত-পরিবেশগত ব্যবস্থা (বাস্তুতন্ত্র), যার মধ্যে রয়েছে:
নদী + জঙ্গল + কৃষিজমি + ভূগর্ভস্থ জল + মাছ + চারণভূমি + ঋতুভিত্তিক জলপ্রবাহ + গ্রাম + মানুষের জীবিকা + সাংস্কৃতিক সম্পর্ক।
অতএব, কেন নদী থেকে জল সরিয়ে বেতওয়া অববাহিকায় পাঠানো মানে কেবল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় জল সরানো নয়। এর অর্থ হল একটি সম্পূর্ণ পরিবেশগত সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস।
দৌধন বাঁধ: দৌধন বাঁধকে আদিবাসী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যাবে যে, দৌধন বাঁধ যে ভূখণ্ডে তৈরি হচ্ছে, সেটি কোনও ‘খালি জমি’ নয়।
সরকারি হিসাবেই প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব স্বীকার করা হয়েছে। প্রাথমিক সরকারি মূল্যায়নে প্রায় ৯,০০০ হেক্টর জমি ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪,১৪১ হেক্টর পন্না টাইগার রিজার্ভের এলাকা। প্রায় ১০টি গ্রামের ১,৯১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরে সরকারি নথিতে পান্না টাইগার রিজার্ভের ভিতরে ও আশেপাশে প্রায় ৬,০১৭ হেক্টর বনভূমি প্রকল্পের কারণে প্রভাবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭,১৯৩টি প্রকল্প-প্রভাবিত পরিবার চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়েছে।
এই বিভিন্ন সংখ্যার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে:
‘ক্ষতি’ কখনও একমাত্রিক সংখ্যা নয়।
এর মধ্যে রয়েছে:—
অধিগৃহীত জমি;
জলে ডুবে যাওয়া জমি;
ধ্বংস হওয়া বন;
বাস্তুচ্যুত মানুষ;
যারা বাস্তুচ্যুত না হলেও বন ব্যবহারের অধিকার হারাবেন;
যাদের জমির আইনি মালিকানা আছে;
যাদের জীবিকা কমন বা বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল;
এবং এমন পরিবেশগত ক্ষতি যার মূল্য টাকায় সহজে নির্ধারণ করা যায় না।
শেষের বিষয়টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদিবাসী জীবিকা: আদিবাসী জীবিকা আসলে গোটা ভূদৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত।
ধরা যাক, একটি আদিবাসী পরিবারের রয়েছে—
এক টুকরো কৃষিজমি + জঙ্গলে প্রবেশাধিকার + জল + চারণভূমি + বনজ সম্পদ + মাছ ধরা + মরসুমি শ্রম।
কিন্তু সরকার হিসাব করবে:
কত একর ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে?
কিন্তু পরিবারটি ক্ষতিটিকে অনুভব করবে এভাবে:
জমি + জঙ্গল + জল + খাদ্য + জ্বালানি + গবাদি পশুর সম্পদ + সামাজিক সম্পর্ক + পূর্বপুরুষের ভূখণ্ড + জীবিকার নিরাপত্তা।
দুটি হিসাবের মধ্যে বিরাট পার্থক্য।
এই কারণেই বর্তমান আন্দোলনকে শুধু ‘কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে’ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করলে বিষয়টির গভীরতা বোঝা যায় না।
প্রশ্ন হয়ে ওঠে: একটি মানুষের জীবনের যে সম্পূর্ণ পরিবেশগত ও সামাজিক পরিসরটি নষ্ট হচ্ছে, তার মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে?
জল: এখানেই ‘জল’কে একটি সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে দেখতে হবে।
ধরা যাক, 'কেন' অববাহিকার একটি গ্রাম।
সেখানে নদী দিতে পারে: পানীয় জল + মাছ + সেচ + উর্বর পলি + পশুপালন + সাংস্কৃতিক জীবন + পরিবহণ + ঋতুভিত্তিক+ জীবনযাত্রার ছন্দ।
কিন্তু একই নদীকে রাষ্ট্র বা কর্পোরেট পুঁজি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হিসাবে দেখতে পারে, যেমন:
জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা + সেচের সম্ভাবনা + শিল্পের জল + শহরের জল সরবরাহ।
অতএব বাঁধ নির্মাণ হলে প্রশ্নটি শুধু:
‘কত জল পাওয়া যাবে?’ এটা নয়। বরং: ‘এই বাঁধের ফলে স্থানীয় মানুষ ও নদীর মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কী পরিবর্তন হবে?’ এই প্রশ্নটিই পরিবেশগত ইতিহাস (Environmental History) -এর প্রশ্ন।
বাজার : এবার বাজারকে যুক্ত করা যাক
এটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসী সমাজ কখনওই সম্পূর্ণভাবে বাজারের বাইরে ছিল, এমন ধারণা ঐতিহাসিকভাবে ঠিক নয়।
বন থেকে সংগৃহীত বহু সম্পদ বাজারে যায়, যেমন:
মহুয়া; তেন্দু পাতা; শালপাতা; বাঁশ; মধু; লাক্ষা; ঔষধি উদ্ভিদ; কাঠ; অন্যান্য বনজ সম্পদ।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়: ‘আদিবাসীরা কি ঐতিহ্যবাহী, না আধুনিক?’
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত: ‘সময়ের সঙ্গে তাঁদের বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?’
কোনও বনজ সম্পদ যখন স্থানীয় ব্যবহারের পরিবর্তে একটি বাণিজ্যিক পণ্যে (commodity) পরিণত হয়, তখন পুরো সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে।
তখন সেখানে প্রবেশ করে: ব্যবসায়ী + মহাজন + ঠিকাদার + বন দফতর + কোম্পানি + রাষ্ট্র।
অর্থাৎ: জঙ্গল → পণ্য → বাজার → পুঁজি → সরকারি রাজস্ব → শিল্প উৎপাদন
এই শৃঙ্খলের সঙ্গে আদিবাসী সমাজও যুক্ত হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ আদিবাসীরা রাজনৈতিক অর্থনীতির বাইরে নয়। বরং তারা এমন একটি রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিতরে অবস্থান করে, যা তাদের নিজস্ব পরিবেশগত সম্পদের মূল্য ও নিয়ন্ত্রণকেও নির্ধারণ করতে পারে।
এখানেই রাজনৈতিক অর্থনীতি (Political Economy) -এর গুরুত্ব:
রাজনৈতিক অর্থনীতি মূলত একটি সহজ প্রশ্ন করে:
কে কী পায়, কার কাছ থেকে পায় এবং কোন ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে পায়?
একটি জঙ্গলের ক্ষেত্রেই দেখা যায়—
অংশীদার, জঙ্গলের অর্থ, আদিবাসী সমাজ, জীবিকা, ভূখণ্ড, সংস্কৃতি, বন দফতর, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত বন, সংরক্ষণবাদী, জীববৈচিত্র্য, খনি সংস্থা, খনিজসমৃদ্ধ জমি, সরকার, রাজস্ব ও উন্নয়ন।
এরপর আছে, কার্বন বাজার, সঞ্চিত কার্বন (Carbon stock), বিনিয়োগকারী, আর্থিক সম্পদ।
অর্থাৎ একই জঙ্গল। কিন্তু প্রত্যেকের কাছে তার অর্থ আলাদা।

এই কারণেই পরিবেশগত ইতিহাসকে রাজনৈতিক অর্থনীতি থেকে আলাদা করা যায় না।
প্রতিরোধ: এর ফলে ‘আদিবাসী প্রতিরোধ’-কেও নতুনভাবে দেখতে হয়।
এখানেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাসচর্চা (Subaltern Studies) -এর সঙ্গে পরিবেশের ইতিহাসের সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদিবাসী প্রতিরোধকে প্রায়ই বলা হয়: আদিবাসী বনাম রাষ্ট্র। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল।
সংঘাত হতে পারে—
আদিবাসী বনাম খনি কোম্পানি; আদিবাসী বনাম বন দফতর; আদিবাসী বনাম ঠিকাদার; আদিবাসী বনাম বাঁধ প্রকল্প; আদিবাসী বনাম সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ; আবার আদিবাসী সমাজের ভিতরেও মতভেদ থাকতে পারে।
কেউ চাইতে পারেন: ক্ষতিপূরণ। কেউ চাইতে পারেন: চাকরি। কেউ চাইতে পারেন: প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ হোক। কেউ চাইতে পারেন: ব্যক্তিগত জমির অধিকার। অন্যরা হয়তো চাইবেন: সমষ্টিগত বনাধিকার।
অতএব, ‘আদিবাসী সমাজ’কে একটি সম্পূর্ণ একজাতীয় বা একমত রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দেখাও ঠিক নয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাসচর্চা (Early Subaltern Studies) প্রশ্ন করে: আদিবাসী বাঁধের বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন করছে?
রাজনৈতিক বাস্তুশাস্ত্র (Political Ecology) প্রশ্ন করে: কোন বস্তুগত পরিবর্তন সেই প্রতিরোধ তৈরি করছে?
পরিবেশগত ইতিহাস (Environmental History) প্রশ্ন করে: এই নদী, জঙ্গল, জমি ও মানুষের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং প্রকল্পটি সেই সম্পর্ককে কীভাবে বদলে দিচ্ছে?
রাজনৈতিক অর্থনীতি প্রশ্ন করে: জলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, কে সুবিধা পাচ্ছে এবং কে খরচ বহন করছে?
এই চারটি প্রশ্ন একসঙ্গে করলে আমরা পৌঁছে যাই একটি গভীরতর ধারণায়:
আদিবাসী প্রতিরোধ কেবল কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক বা আবেগগত প্রতিক্রিয়া নয়; এটি একটি বস্তুগত পরিবেশগত ব্যবস্থার পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।
'কেন-বেতোয়া নদী সংযুক্তি':
'কেন–বেতওয়া' প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব হোলো এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক প্রশ্ন তৈরি হয়। 'কেন' অববাহিকা; যেখানে পরিবেশগত ও সামাজিক খরচ কেন্দ্রীভূত হতে পারে:— জমি + বন+ নদী + বাস্তুচ্যুতি + জীবিকা + জীববৈচিত্র্য।
'বেতওয়া' অববাহিকা; যেখানে প্রকল্পের প্রধান সুফল হিসেবে দেখানো হচ্ছে—সেচ + পানীয় জল + কৃষি উৎপাদন + জলনিরাপত্তা।
অর্থাৎ একটি অঞ্চলে পরিবেশগত খরচ, অন্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক সুবিধা। এটাই একটি ক্লাসিক রাজনৈতিক বাস্তুতান্ত্রিক সংকট (Political Ecology problem)।
ইতিহাস বলছে, যারা পরিবেশগত খরচ বহন করেন, তারাই যে প্রকল্পের প্রধান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন—তা নয়। তাই শুধু: ‘এই প্রকল্প গোটা বুন্দেলখন্দ-এর উপকার করবে’ বললেই প্রশ্নটির সমাধান হয় না। প্রশ্ন করতে হয়: ‘কোন বুন্দেলখন্দ?’ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ: ‘কার জল-নিরাপত্তার জন্য কে মূল্য দিচ্ছে?’
এখানে একটি বিষয় জরুরি যে, বুন্দেলখন্ড -এ সত্যিই জলসংকট রয়েছে। প্রকল্পটি সেচ ও পানীয় জলের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি হচ্ছে বলে সরকারি ঘোষনা। এই অঞ্চলের জলসংকট যেমন বাস্তব। এবং একই সঙ্গে, সেই জলসংকটের সমাধানকে শুধু কত জল পৌঁছল তার ভিত্তিতে বিচার করা যায় না, এটাও সত্য। এদিকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত করা কার্যত সম্ভব সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে দ্বিমত বিদ্যমান।
হারানো বন + পরিবর্তিত নদী + বাস্তুচ্যুত মানুষ + হারানো জীবিকা + হারানো বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবা (ecosystem services) + পুনর্বাসনের বাস্তব ফলাফল + সুবিধার ন্যায্য বণ্টন ও তার আর্থিক মূল্যায়ন সত্যিই কি সম্ভব?
সুতরাং, 'কেন–বেতওয়া', সংঘাতটি শুধু: আদিবাসী বনাম রাষ্ট্র নয়। বরং এটি একটি বিশাল সম্পর্কের জাল: আদিবাসী সমাজ+জঙ্গল+নদী+কৃষি+জমির অধিকার+রাষ্ট্র+ইঞ্জিনিয়ারিং+সেচ+ অন্য অঞ্চলের কৃষক+আঞ্চলিক উন্নয়ন+পুঁজি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি।
অর্থাৎ আদিবাসীরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে দাঁড়িয়ে নেই। আদিবাসীরা সেই পরিবেশগত ও রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিতরেই দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রশ্ন তুলছে যে, কোন শর্তে সেই অর্থনীতি পুনর্গঠিত হবে।
'কেন–বেতওয়া' প্রকল্পের প্রশ্নটি তাই শুধু: ‘আদিবাসীরা 'কেন নদী সংযোগ প্রকল্পের' বিরোধিতা করছে কেন?’ এভাবে দেখলে বিষয়টি খুব ছোট হয়ে যায়।

আরও গভীর প্রশ্নটি হল:
“যখন একটি নদীকে তার নিজস্ব জীবন্ত পরিবেশগত ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি অববাহিকা থেকে অন্য অববাহিকায় জল স্থানান্তরের পরিকাঠামোয় পরিণত করা হয়, তখন নদীর সঙ্গে কার সম্পর্ককে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং কার সম্পর্ককে উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে দেখা হয়?”
আমার মতে এটাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাসচর্চা (Early Subaltern Studies) → পরিবেশগত ইতিহাস (Environmental History) → রাজনৈতিক বাস্তুশাস্ত্র (Political Ecology) -র সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ।
আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে "কেন–বেতওয়া" আন্দোলনকে ‘উন্নয়নবিরোধী আদিবাসী আন্দোলন’ হিসেবে নয়, বরং জল, জঙ্গল, জমি ও জীবিকার উপর নিয়ন্ত্রণ পুনর্নির্ধারণের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক-পরিবেশগত সংগ্রাম হিসেবে দেখা যায়।




সবার আগে আলোচনায় যোগ দিন।