যে বন তারা কিনছে
মতামত/বিশ্লেষণ

যে বন তারা কিনছে

এই নিবন্ধটি ভারতের গ্রেট নিকোবর দ্বীপে একটি বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন শহর নির্মাণ করা হবে, যার ফলে সেখানকার প্রাচীন বৃষ্টিবন ধ্বংস হবে। এই বনভূমি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে টিকে আছে এবং এটি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রকল্পের ফলে বিপন্ন লেদারব্যাক কচ্ছপ এবং শোম্পেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। নিবন্ধটি কর্পোরেট স্বার্থ এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও তুলে ধরেছে, যা এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে মূল চালিকাশক্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

আলোচনা 6 comments

উত্তর দিচ্ছেন
তাপস বিশ্বাস
তাপস বিশ্বাস 11/05/2026 23:15
প্রতিবেদনের একটি দ্বিতীয় অধ্যায় হওয়া উচিৎ।
প্রতিবেদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ।
Tapas Biswas
Tapas Biswas 11/05/2026 23:17
“A second chapter of the report should be there.
Drawing the attention of the reporter.
Thanks for the report.”
Aratrika Karmakar
Aratrika Karmakar 11/05/2026 23:38
After reading this, “development” sounds very different to me.
Debjyoti Bagchi
Debjyoti Bagchi 11/05/2026 23:40
This article is very powerful and emotional. It clearly shows how forests are being destroyed in the name of development. The writing is simple but strong, and it makes the reader think deeply about nature, power, and greed.
কুশল চক্রবর্তী
কুশল চক্রবর্তী 11/05/2026 23:46
আমার কাছে লেখাটি খুব আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে খুব তীক্ষ্ণ মনে হয়েছে। বন, উন্নয়ন আর বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কর্পোরেট শক্তির কারণে, সেটা লেখাটি খুব শক্তভাবে অনুভব করায়।
কুশল চক্রবর্তী
কুশল চক্রবর্তী 11/05/2026 23:46
আমার কাছে লেখাটি খুব আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে খুব তীক্ষ্ণ মনে হয়েছে। বন, উন্নয়ন আর বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কর্পোরেট শক্তির কারণে, সেটা লেখাটি খুব শক্তভাবে অনুভব করায়।
মতামত/বিশ্লেষণ

যে বন তারা কিনছে

ভারত তার শেষ অবশিষ্ট প্রাচীন বৃষ্টিবনগুলির (রেন ফরেস্ট) কিছু ধ্বংস করছে। কর্পোরেট স্বার্থগুলি চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

1777795142438~2

বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। এরজন্য কাউকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। ভারতের দক্ষিণতম প্রান্তে, যেখানে বঙ্গোপসাগর আন্দামান সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে, সেখানে একটি বর্ষাবন রয়েছে যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে টিকে আছে। এটি বরফযুগ পার করে এসেছে। ভূগর্ভস্থ প্লেটের সঞ্চালন সহ্য করেছে। সুনামি সহ্য করেছে। এটি সাম্রাজ্য, উপনিবেশকারী এবং পৃথিবীর বুকে নেমে আসা প্রতিটি বিপর্যয়ের চেয়েও বেশি দিন টিকে থেকেছে।

এটা আমাদেরকেও টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

ভারত সরকার এই বনভূমির ১৩০.৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা উজাড় করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এটি পৃথিবীর অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র। এর জায়গায় গ্রেট নিকোবর দ্বীপে তৈরি হবে: একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, একটি বিমানবন্দর, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নতুন শহর।

প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। গাছ কাটার চুক্তি দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি এগোতে শুরু করেছে।

গ্যালাথিয়া উপসাগরে বন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করা এগারোটি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিকে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বর্ণনা করেছে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে, যার ব্যবসায়িক সম্পদের উত্থান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সমান্তরালে এগিয়েছে।

২০১৪ সালে মোদি যেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, সেদিন তিনি আদানির ব্যক্তিগত বিমানে করে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন। বিমানের এক পাশে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। অন্য পাশে ছিল আদানি গ্রুপের লোগো।

এটি গল্পের পটভূমি নয়। এটাই গল্প।

1778474892108~2

গ্রেট নিকোবর কোনো সাধারণ বনভূমি নয়। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকা। এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট। এখানে শত শত স্থানীয় প্রজাতি বাস করে, যেগুলি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক কচ্ছপ। এটি মারাত্মকভাবে বিপন্ন। প্রতি বছর মে থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্ত্রী কচ্ছপরা এই দ্বীপের গ্যালাথিয়া উপসাগরে ফিরে আসে। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনগত স্মৃতি তাদের পথ দেখায়। প্রস্তাবিত বন্দরটি সরাসরি তাদের প্রধান ডিম পাড়ার স্থানের উপরেই বসানো হচ্ছে। একবার সেই উপসাগরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে, লেদারব্যাক কচ্ছপের ফিরে আসা শুধু ব্যাহত হবে না। তা শেষ হয়ে যাবে।

শোম্পেন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০০ জনেরও কম। লিখিত ইতিহাসেরও আগে থেকে তারা এই বনভূমিতে বসবাস করছে। তাদের জগৎ আর বন আলাদা কোনো বিষয় নয়। তারা একই বিষয়। এই প্রকল্প হাজার হাজার নির্মাণশ্রমিককে এমন এক পরিবেশে নিয়ে আসবে, যেখানে সাধারণ রোগজীবাণুর বিরুদ্ধেও শোম্পেনদের কোনো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। প্রতিটি ঐতিহাসিক নজির আমাদের বলে দেয় এরপর কী ঘটতে চলেছে। মহাদেশ জুড়ে। শতাব্দী জুড়ে। জনসংখ্যা ভয়াবহ ভাবে হ্রাস পায়।

এটি কোনো ঝুঁকির মূল্যায়ন নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ধারা, যা সচেতনভাবে পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে।

সরকারের নিজস্ব প্রভাব মূল্যায়ন রিপোর্টেই বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে: “তারা যে প্রাকৃতিক পরিবেশে বাস করে, সেখানে যেকোনো বিঘ্ন বা পরিবর্তন তাদের অস্তিত্বের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে” এবং “শোম্পেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে একবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে, পুরো সম্প্রদায় বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে।” এই কথাগুলো সরকারি নথিতেই রয়েছে। প্রকল্পটি তবুও এগিয়ে চলছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯৬৪,০০০ গাছ কাটা হবে। কিন্তু যে গবেষকেরা বাস্তবে দ্বীপের বনঘনত্ব নিয়ে প্রকৃত গবেষণা করেছেন, তারা বলছেন আসল সংখ্যা সরকারি হিসাবের কয়েকগুণ বেশি। এই অমিল কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। এটি অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে পুরনো কৌশল। ধ্বংসকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে দেখাও, যতক্ষণ না তা অপরিবর্তনীয় হয়ে ওঠে।

যখন একটি বর্ষাবন উজাড় করা হয়, তখন গাছগুলো প্রথমে মারা যায় না। প্র প্রথমে মরে সেই ছত্রাকজাল, যা হেক্টরের পর হেক্টর জুড়ে শিকড়ের ব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে। তারপর মরে মাটির জীবজগৎ। তারপর নষ্ট হয় জল ধরে রাখার ক্ষমতা। তারপর ভেঙে পড়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র জলবায়ু। শেষ গাছটি পড়ে যাওয়ার আগেই বাস্তুতন্ত্র আসলে ধ্বংস হয়ে যায়।

1778474997891~2

যা অবশিষ্ট থাকে তা কোনো উজাড় করা বন নয়। এটি পৃথিবীর শরীরে একটি ক্ষত। সরকারের যুক্তি তিনটি দাবির উপর দাঁড়িয়ে আছে: মালাক্কা প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান, বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট হাবের উপর নির্ভরতা কমানো, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রতিটি দাবিই আসলে ব্যর্থ।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে ৮৩৬টি দ্বীপ।  তাদের মধ্যে গ্রেট নিকোবর পরিবেশগতভাবে সবচেয়ে ভঙ্গুর। বিকল্প স্থানগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা ও বাতিল করা হয়েছে— জনসমক্ষে এমন কোনো সরকারি রেকর্ড নেই। এই অনুপস্থিতি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। এটি একটি সিদ্ধান্ত। এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর কোনো নৌঘাঁটি নয়। যদি সামরিক উপস্থিতিই লক্ষ্য হয়, তা অনেক কম পরিবেশগত ক্ষতিতে অর্জন করা সম্ভব। আর যদি বাণিজ্যিক লাভজনক হওয়ার দাবি করা হয়, তবে সৎভাবে অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। গভীর সমুদ্রপথে পৌঁছানোর আগে ফিডার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করলে মোট খরচ ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। এই একটি সংখ্যাই প্রকল্পটির সমস্ত অনুমিত সুবিধা মুছে দেয়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে: এর ধরন সুপ্রতিষ্ঠিত। নির্মাণকাজ নির্ভর করে অভিবাসী শ্রমের উপর। দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে স্থানীয়দের জন্য খুব কম চাকরি তৈরি হয়। প্রকল্পে যাদের উচ্ছেদ করা হয়, তারা এর সুবিধাভোগী হয় না। তারা হয় এর শিকার।

Copilot_20260511_211639

ভারতের পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াটি পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য তৈরি হয়নি। এটি এমনভাবে তৈরি, যাতে অনুমোদন দেওয়া যায়, অথচ বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। যখন নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিই প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যায়, তখন নজরদারি এক ধরনের অভিনয়ে পরিণত হয়। যথাযথ যাচাই-বাছাই কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। এই প্রকল্পটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। গবেষক, পরিবেশবিদ ও আইনজীবীরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার জবাব হয়েছে—সবকিছু উপেক্ষা করে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আপত্তিকে ধর্তব্যের মধ্যে না নিয়ে ছুটে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে কোনো যুক্তি শেষ পর্যন্ত জিতলেও, ততক্ষণে বনটি হারিয়ে যায়।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রজাতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা নেই। এমন কোনো বনসৃজন কর্মসূচি নেই যা লক্ষ লক্ষ বছরের পুরনো বর্ষাবনকে পুনর্নির্মাণ করতে পারে। একটি বৃক্ষরোপণ বা প্ল্যান্টেশন কোনো বন নয়। এটি একটি বনের আলোকচিত্র মাত্র। একে অন্যটির সমতুল্য হিসেবে উপস্থাপন করা পরিবেশনীতি নয়।এটি সরকারি লেটারহেডে লেখা একটি মিথ্যা।

গ্রেট নিকোবর বন্দর প্রকল্পের দরপত্রের কেন্দ্রে থাকা কোম্পানির অতীত রেকর্ড সরাসরি উল্লেখ করা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গৌতম আদানি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে তারা ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঘুষ দিয়েছেন জ্বালানি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য। একই দিনে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সমান্তরাল দেওয়ানি মামলা দায়ের করে।

২০২৫ সালে আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ঋণের ভারে জর্জরিত হলে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক তদন্তে প্রকাশিত হয় যে ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন যাতে ভারতের লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন—একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা সংস্থা যা সাধারণ নাগরিকদের দেওয়া প্রিমিয়ামের অর্থে চলে—তার থেকে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলিতে ঢোকানো হবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে লিপিবদ্ধ পরিকল্পনার ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল “আদানি গ্রুপের প্রতি আস্থা প্রদর্শন।” ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে আদানির স্বার্থকে সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে। দেশীয়ভাবে। কয়লা ব্লকের মাধ্যমে। বন্দর চুক্তির মাধ্যমে। মহাদেশজুড়ে বিমানবন্দর ছাড়পত্রের মাধ্যমে। গুজরাটে শুরু হওয়া এক সম্পর্কের মাধ্যমে, যা জাতীয় ক্ষমতার প্রতিটি বছরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেড়েছে।  

এটি সেই কোম্পানি, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যালাথিয়া উপসাগরে বন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে—যা লেদারব্যাক কচ্ছপের ফিরে আসা শেষ করে দেবে। যা নির্মাণশ্রমিকদের নিয়ে যাবে শোম্পেনদের শেষ জগতে। যা লক্ষ লক্ষ বছরের পুরনো বর্ষাবনকে কংক্রিট ও পণ্যবাহী জাহাজের জগতে বদলে দেবে।  

1777795243287~2

গ্রেট নিকোবর দ্বীপ থেকে আটশো কিলোমিটার দূরে, ওডিশার কালাহান্ডি ও রায়গড়ার পাহাড়ে একই ধারা চলছে। ভিন্ন বনভূমি নিয়ে। ভিন্ন কর্পোরেশন নিয়ে, যারা একই ক্ষমতার যন্ত্রের সঙ্গে সমানভাবে ঘনিষ্ঠ। সিজিমালি হলো অক্ষত জীববৈচিত্র্যে ভরা পাহাড়শ্রেণি। এগুলো আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছে। তাদের দেবতা, তিজ রাজা, পাহাড়ের চূড়ার একটি গুহায় অবস্থান করেন। এই পাহাড়ের নিচে রয়েছে ৩১১ মিলিয়ন টন বক্সাইট।

খনির ইজারা রয়েছে ভেদান্ত লিমিটেডের হাতে। এটি লন্ডনে থাকা সদর দপ্তরবিশিষ্ট এক বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠী, যার মালিক বিলিয়নেয়ার অনিল আগরওয়াল। বর্তমানে অসাংবিধানিক হিসাবে ঘোষিত নির্বাচনী বা ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এটি ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে ৪৫৭ কোটি টাকা দান করেছিল, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল ঘোষণা করে। এটি কংগ্রেস দলের সবচেয়ে বড় একক দাতা ছিল। তারা ধারাবাহিকভাবে বিজেপিকেও অর্থ দিয়েছে।গণতান্ত্রিক পরিসরের সর্বত্র। এত ব্যাপকভাবে যে কোনো নির্বাচনী ফলাফল তাদের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে না।

পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণা এই প্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্টভাবে নাম দিয়েছে: চাঁদা দাও, ধান্দা লও।  অর্থাৎ দান দাও, ব্যবসা নাও। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়কেই ভেদান্তর কাছ থেকে বেআইনি অনুদান গ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত রায় দেয় যে ভেদান্ত একটি বিদেশি কোম্পানি, যা ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে দান হিসাবে অর্থ দিতে পারে না। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। কোনো পক্ষকেই বিচার করা হয়নি। বরং সরকার ২০১৬ সালের ফাইন্যান্স বিলে একটি পূর্বপ্রযোজ্য সংশোধনী ঢুকিয়ে দেয়, যাতে আইনটাই বদলে দিয়ে সেই অপরাধ মুছে ফেলা যায়। যখন সেই সংশোধনী যথেষ্ট প্রমাণিত হলো না, তখন ২০১৮ সালে দ্বিতীয় সংশোধনী এনে সেই পূর্বপ্রযোজ্য সুরক্ষার সময় ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলো। আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তারা আইন বদলে দিল। তারপর ভেদান্ত আবার দান করল। এবার নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে। সুপ্রিম কোর্ট সেগুলিকেও বাতিল করে দিল।

একই কর্পোরেশন। একই রাজনৈতিক দলগুলি। একই বনভূমি যারা এরজন্য মূল্য দিচ্ছে। ২০২১ সালে ভেদান্ত খনি কোম্পানিগুলির জন্য পরিবেশগত নিয়ম শিথিল করার উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে লবিং করেছিল। সরকার তা মেনে নেয়। খনি কোম্পানিগুলিকে নতুন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

২০০৬ সালের বনাধিকার আইনের অধীনে গ্রামসভা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। যে সম্প্রদায়গুলির বনভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের স্বাধীন ও পূর্বানুমতি নেওয়া এই প্রক্রিয়ায় জরুরি। সিজিমালিতে করা অভিযোগ অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রক্রিয়া এক দিনেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি দাবী করেছে সম্মতির প্রস্তাবগুলো জাল করা হয়েছিল। তারা নিজেরাই ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামসভা আয়োজন করে। প্রতিটি সভাই খনন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পুনর্বিবেচনা করা হয়নি। বরং এর জবাবে দমন করা আরো বাড়ানো হয়। পুলিশ রাতের অন্ধকারে গ্রামে পৌঁছেছিল। বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া হয়েছিল। দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছিল। বাসিন্দাদের আটক করা হয়েছিল। নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছিল। মহিলাদের ঘর থেকে বের হয়ে পানীয় জল সংগ্রহ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। যে ঝরনাগুলো সেই জল সরবরাহ করে, সেগুলো প্রবাহিত হয় কারণ বক্সাইট বর্ষার জল ধরে রাখে এবং সারা বছর প্রাকৃতিক পথে তা ছাড়ে। বক্সাইট খনন মানে জলব্যবস্থাকেই খনন করা অর্থাৎ ধ্বংস করা।

1778474872529~2

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নরিং দেই মাজি, যিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব এক আদিবাসী মহিলা নেতা, তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি তাঁর গর্ভবতী পুত্রবধূকে প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়েছিলেন। সিজিমালিতেও গণতন্ত্রের অবস্থা এইরকম। ভেদান্তের পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আয়োজিত এক জনশুনানিতে, পুষ্পা মাজি নামে এক আদিবাসী মহিলা কোম্পানির কর্মকর্তাদের ও জেলা প্রশাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: “আপনারা আমাদের অশিক্ষিত আদিবাসী বলেন। কিন্তু আপনারা শিক্ষিত হয়েও বুঝতে পারছেন না যখন আমরা বলি সিজিমালি পাহাড় আমাদের কাছে পবিত্র। তাহলে বলুন তো, বড় বোকা কে? আপনারা না আমরা?” কেউ তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আদিবাসী সম্প্রদায় ও পুলিশের সংঘর্ষে সত্তর জন আহত হয়। আন্দোলনের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মেধা পাটকরকে একটি রেলস্টেশনে আটক করা হয়। সারা ভারতের ১২৫ জনেরও বেশি আইনজীবী একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। প্রথম ধাপের বন ছাড়পত্র দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ভেদান্ত অপেক্ষা করছে। ৪৫৭ কোটি টাকা দান করার পর। পরিবেশগত নিয়ম শিথিল হওয়ার পর। সম্প্রদায়ের সম্মতি নাকি জাল নথির মাধ্যমে পাওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের পরও।

একটি প্রশ্নের উত্তর মেলে না। যখন কর্পোরেশনগুলি আর্থিক দানের ম্যাধ্যমে প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে, তখন বনভূমির প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আর কে বাকি থাকে?

গ্রেট নিকোবর ও সিজিমালি দুটি আলাদা গল্প নয়। তারা একই বইয়ের দুটি অধ্যায়। একটিতে, এমন একটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পৌঁছে দিতে নিজের বিমানে নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা একটি বন্দরের চুক্তি চাইছে—যা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতির একমাত্র প্রধান ডিম পাড়ার স্থানে তৈরি হবে।অন্যটিতে, এমন একটি কর্পোরেশন যা প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলগুলিকে মিলিয়ে ৪৫৭ কোটি টাকা দান করেছে, পবিত্র আদিবাসী ভূমি খনন করছে, অভিযোগ অনুযায়ী জাল সম্মতির নথি দিয়ে, পুলিশের বলপ্রয়োগে।

প্রক্রিয়াটি একই রকম। ছকটিও অভিন্ন। শুধু বনভূমি বদলিয়ে যায়। এই বনভূমিগুলিকে ধ্বংস করা কোনো পরিবেশগত গল্প নয়। এটি সেই প্রশ্নের গল্প, একটি সমাজ পৃথিবীকে কীসের জন্য মনে করে। কাকে সে রক্ষা করে। আর কাকে সে বলি দেয়। পরিবেশ উন্নয়নের একটি বিভাগ নয়। উন্নয়ন পরিবেশেরই একটি অংশ মাত্র। এটি কোনো শব্দগত পার্থক্য নয়। এটাই আসল বিষয়।

মানবজীবন টিকিয়ে রাখার পৃথিবীর ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশগত। বিশুদ্ধ বাতাস। বৃষ্টিপাত। উর্বর মাটি। স্বচ্ছ জল। এগুলো কোনো পটভূমির শর্ত নয়। এগুলো সেই অবকাঠামো, যার উপর অন্য সব অবকাঠামো নির্ভর করে।

কার্যকর বাস্তুতন্ত্র ছাড়া কোনো বন্দর নেই। কোনো বিমানবন্দর নেই। কোনো শহর নেই। কোনো অর্থনীতি নেই। কিছুই নেই। যখন সরকারগুলি কর্পোরেশনের জন্য বর্ষাবন উজাড় করতে করতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করে, সেটি সংকটের প্রতিক্রিয়া নয়। সেটি প্রকৃতপক্ষে সংকটের উপর মঞ্চস্থ করা একটি অভিনয়।

জীববৈচিত্র্য পরিবেশের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস করলে জীববৈচিত্র্য ভেঙে পড়ে। যথেষ্ট জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করলে পরিবেশব্যবস্থাই সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হতে শুরু করে।এর কোনো পুনরুদ্ধার নেই, ফিরে আসার পথ নেই। ভেঙে পড়া জলচক্রের জায়গা কোনো প্রযুক্তি নিতে পারে না। এরকম এক পৃথিবীর জন্য কোনো প্রকৌশলগত সমাধান নেই, যা এতগুলি পরিবেশগত সীমা অতিক্রম করেছে যে আর মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম নয়।

এটি ভবিষ্যতের কোনো ঝুঁকি নয়। এটি বর্তমানের চলমান প্রক্রিয়া। এবং এটিকে দ্রুততর করা হচ্ছে। বনভূমি ধরে ধরে। ছাড়পত্র ধরে ধরে। কর্পোরেট স্বার্থ ধরে ধরে। এখানেই যা আছে তা ধ্বংস করা হচ্ছে। এমন একটি বর্ষাবন পরিবেশগত ভাবে যার সমতুল্য ভারতে আর একটিও নেই। একটি মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতির একমাত্র প্রধান ডিম পাড়ার স্থান। এমন আদিবাসী জনগোষ্ঠী যারা সহস্রাব্দ ধরে টিকে আছে কিন্তু হয়তো আসন্ন ধ্বংস থেকে আর বাঁচতে পারবে না। ভূতাত্ত্বিক সময় ধরে গড়ে ওঠা জলব্যবস্থা। জীববৈচিত্র্যের এমন ভাণ্ডার, যা বিজ্ঞান এখনো পুরোপুরি পড়ে শেষ করতে পারেনি।

একবার এগুলো হারিয়ে গেলে, তারা আর ফিরে আসবে না। না এক দশকে। না এক শতাব্দীতে। না এমন কোনো সময়সীমার মধ্যে যা এই পৃথিবীকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে চলা মানুষের কাছে কোনো বাস্তব অর্থ বহন করে।

কোনো বন্দর একটি প্রজাতির বিনিময়ে মূল্যবান হতে পারে না। কোনো বিমানবন্দর একটি জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার সমান নয়। কোনো কার্গো টার্মিনাল সেই বর্ষাবনের সমান নয়, যা গড়ে উঠতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লেগেছে এবং ধ্বংস হতে লাগবে মাত্র এক প্রজন্ম। 

Copilot_20260511_213923

সব তথ্য জনসমক্ষে রয়েছে। ক্ষমতার সঙ্গে কর্পোরেট যোগাযোগ নথিভুক্ত আছে। ছাড়পত্র, চুক্তি, পুলিশ মোতায়েন, জাল সম্মতিপত্র—সবকিছুই রেকর্ডে আছে। আর সেই সবকিছুই উপেক্ষা করা হচ্ছে। সমস্যা তথ্যের অভাব নয়। সমস্যা হলো একটি ব্যবস্থা, যা কাঠামোগতভাবে বলতে অক্ষম: এখানে নয়। এই বন নয়। এই মানুষদের নয়। কোনো রকম মূল্যের বিনিময়েই নয়।যতক্ষণ না সেই ব্যবস্থা তৈরি হয়, গ্রেট নিকোবর ও সিজিমালি একমাত্র শেষ বিক্রি হওয়া বৃষ্টিবন হবে না। তারা হবে প্রতিটি পরবর্তী বনের অধিকার দখলের ছক।

পৃথিবী অজ্ঞতার কারণে মরছে না। এটি মরছে দায় স্বীকার না করার জন্য। নির্বাচনী বন্ডে কেনা দায়মুক্তি। পছন্দের কর্পোরেট গোষ্ঠীর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অর্থে কেনা দায়মুক্তি। আদিবাসী জমিতে পুলিশের বুটের নিচে প্রতিষ্ঠিত দায়মুক্তি। জাল গ্রামসভার প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠিত দায়মুক্তি। বছরের শেষ দিনের মধ্যরাতে স্বাক্ষরিত ছাড়পত্রে প্রতিষ্ঠিত দায়মুক্তি।

আর শেষ পর্যন্ত, সেই দায়মুক্তির মূল্য চোকানো হচ্ছে বর্ষাবনগুলির মাধ্যমে। আর সেই বিল চাপানো হচ্ছে এমন মানুষের ওপর, যারা এখনো জন্মায়নি।

আলোচনা 6 comments

উত্তর দিচ্ছেন
তাপস বিশ্বাস
তাপস বিশ্বাস 11/05/2026 23:15
প্রতিবেদনের একটি দ্বিতীয় অধ্যায় হওয়া উচিৎ।
প্রতিবেদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ।
Tapas Biswas
Tapas Biswas 11/05/2026 23:17
“A second chapter of the report should be there.
Drawing the attention of the reporter.
Thanks for the report.”
Aratrika Karmakar
Aratrika Karmakar 11/05/2026 23:38
After reading this, “development” sounds very different to me.
Debjyoti Bagchi
Debjyoti Bagchi 11/05/2026 23:40
This article is very powerful and emotional. It clearly shows how forests are being destroyed in the name of development. The writing is simple but strong, and it makes the reader think deeply about nature, power, and greed.
কুশল চক্রবর্তী
কুশল চক্রবর্তী 11/05/2026 23:46
আমার কাছে লেখাটি খুব আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে খুব তীক্ষ্ণ মনে হয়েছে। বন, উন্নয়ন আর বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কর্পোরেট শক্তির কারণে, সেটা লেখাটি খুব শক্তভাবে অনুভব করায়।
কুশল চক্রবর্তী
কুশল চক্রবর্তী 11/05/2026 23:46
আমার কাছে লেখাটি খুব আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে খুব তীক্ষ্ণ মনে হয়েছে। বন, উন্নয়ন আর বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কর্পোরেট শক্তির কারণে, সেটা লেখাটি খুব শক্তভাবে অনুভব করায়।
আমাদের লক্ষ্য

আমরা নিজেদেরকে “প্রতিরোধের গণমাধ্যম” হিসেবে দেখি।

জীবের বহুসংকটকে, জীবের বহুদুঃখকে আমরা মধ্যমপ্রতিপদের অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করি, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, এবং বৃহত্তর বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন ও বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি জোটের সাথে হাত মিলিয়ে তাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

যোগাযোগ করুন

ইমেল: thedegrowthofficial.com