Home
The Forbearance : ধোঁয়ার ভেতরেও সংযমের মুখ
Opinion/Analysis

The Forbearance : ধোঁয়ার ভেতরেও সংযমের মুখ

The Forbearance : ধোঁয়ার ভেতরেও সংযমের মুখ ঘন সাদা ধোঁয়া যেন মুহূর্তের জন্য ঢেকে দিয়েছে রাস্তা, আকাশ, এমনকি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যেকার আস্থার সম্প…

Discussion 0 comments

Replying to
No comments yet.

Be the first to join the discussion.

Opinion/Analysis

The Forbearance : ধোঁয়ার ভেতরেও সংযমের মুখ

The Forbearance :

ধোঁয়ার ভেতরেও সংযমের মুখ

1000578487

ঘন সাদা ধোঁয়া যেন মুহূর্তের জন্য ঢেকে দিয়েছে রাস্তা, আকাশ, এমনকি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যেকার আস্থার সম্পর্কও। সেই ধোঁয়ার ভেতর থেকে এক তরুণের ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে। তার হাতে একটি টিয়ার গ্যাস শেল, যা বিস্ফোরণের আগেই সে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে চাইছে। আপনার বর্ণিত প্রেক্ষাপটে এই একটিমাত্র দৃশ্য যেন সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের নৈতিক চরিত্রের প্রতীক হয়ে ওঠে।

যুবসমাজের ক্ষোভ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বহু তরুণ-তরুণীর মনে হতাশা তৈরি করেছে। সেই ক্ষোভ নিয়েই তারা রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু ক্ষোভ আর সহিংসতা এক জিনিস নয়।

এই ছবিটি ইতিহাসের এমন কিছু মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন প্রতিবাদকারীরা রাষ্ট্রের কঠোরতার মুখেও নিজেদের সংযম হারাননি। ১৯৩০ সালের ধারাসানা লবণ কারখানা সত্যাগ্রহে ব্রিটিশ পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জের মুখে আন্দোলনকারীরা পাল্টা আক্রমণ করেননি। মার্কিন সাংবাদিক ওয়েব মিলারের প্রতিবেদনে সেই দৃশ্য সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। শক্তির বিরুদ্ধে সংযম তখন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছিল।

আবার ১৯৬৫ সালের সেলমা থেকে মন্টগোমারি পদযাত্রায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা পুলিশি দমন-পীড়নের মুখেও অহিংস পথ ছাড়েননি। এডমন্ড পেটাস ব্রিজে রক্তাক্ত সেই দিনটি—যা পরে "ব্লাডি সানডে" নামে পরিচিত হয়, শেষ পর্যন্ত জনমতকে আন্দোলনের পক্ষে নিয়ে আসে। কখনও কখনও একটি রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে প্রতিবাদকারীর আত্মসংযম।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও একই শিক্ষা বহন করে। মহাত্মা গান্ধী বারবার বলেছিলেন, অহিংসা দুর্বলতার আশ্রয় নয়; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ প্রকাশ। প্রতিপক্ষকে আঘাত না করেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল থাকা, এটাই অহিংস প্রতিরোধের মূল শক্তি।

ধোঁয়ার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণ তাই কেবল একজন প্রতিবাদকারী নন; তিনি যেন একটি ধারণার প্রতিনিধিত্ব করছেন। যদি সত্যিই তিনি বিস্ফোরণের আগে টিয়ার গ্যাস শেলটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়ে অন্যদের ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করে থাকেন, তবে সেই কাজ প্রতীকী অর্থে বলে—"আমরা প্রতিবাদ করতে এসেছি, প্রতিশোধ নিতে নয়।"

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আত্মসংযম। লাঠি, জলকামান বা টিয়ার গ্যাস একটি জনসমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করতে পারে; কিন্তু সংযম, শৃঙ্খলা ও নৈতিক দৃঢ়তাকে সহজে ভেঙে দিতে পারে না। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের দৃশ্য সাময়িকভাবে ভয় সৃষ্টি করলেও, অহিংস মানুষের দৃঢ়তা দীর্ঘমেয়াদে জনমতকে প্রভাবিত করেছে।

এই ছবিটি তাই কেবল সংঘর্ষের নয়; এটি দায়িত্ববোধেরও ছবি। ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যের নিরাপত্তার কথাও ভেবে যে প্রতিবাদ এগিয়ে চলে, সেই প্রতিবাদ গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে। কারণ গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়, নাগরিকের বিবেক।

এই ধোঁয়া একদিন মিলিয়ে যাবে। কিন্তু যদি এই সংযম, মানবিকতা এবং অহিংস প্রতিরোধের চেতনা অটুট থাকে, তবে এই ছবিটি হয়তো ভবিষ্যতে স্মরণ করা হবে এমন এক প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে, যারা ক্ষোভকে ধ্বংসের ভাষায় নয়, নৈতিক সাহসের ভাষায় প্রকাশ করতে চেয়েছিল।

ইতিহাসের একটি শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক—শক্তি কখনও কখনও রাষ্ট্রের হাতে থাকে, কিন্তু নৈতিক কর্তৃত্ব অর্জন করে সেই মানুষ, যে উত্তেজনার মুহূর্তেও নিজের মানবিকতা হারায় না।

Discussion 0 comments

Replying to
No comments yet.

Be the first to join the discussion.

Our mission

We define ourselves as a “Mass Media of Resistance”

We seek to understand and analyze the Bahusaṅkaṭa (i.e., Polycrisis: a multidimensional crisis that doesn't have a straight forward solution) in which we all are immersed, along with the Bahuduḥkha (multiform suffering) of all sentient beings, through the lens of Madhyamāpratipada (the Middle Way in Buddhism which is our guiding force). And in collaboration with the broader Ecological Solidarity Movement and the Ecological Solidarity Alliance, we strive to bring the depth of these realities to the forefront of human consciousness.

Contact us

Email: thedegrowthofficial.com