সংহতি বার্তা
সংহতি বার্তা
আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি, হরিদ্বারের মাতৃসদন আশ্রমে ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দজীর অবিরাম অনশন আন্দোলনের দশম দিনে আমরা গভীর উদ্বেগ, সংহতি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর লড়াইকে সমর্থন জানাচ্ছি।
প্রশাসনিক দুর্নীতি, মাফিয়া ব্যবস্থা, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও বহুমাত্রিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং অবিরল ও দূষণমুক্ত গঙ্গা নদীর দাবিতে এই অনশন আন্দোলন এক গভীর নৈতিক ও সভ্যতাগত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। গঙ্গা কেবল একটি নদী নয়—গঙ্গা ভারতের জীবনীশক্তি, জীববৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাতৃসদন আশ্রম দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গার প্রাকৃতিক প্রবাহ, নির্মলতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে ত্যাগ, তপস্যা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তা আজকের ভোগবাদী ও প্রকৃতিবিরোধী উন্নয়ন মডেলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ। এই অনশন আন্দোলন আসলে মানুষের তৈরি তথাকথিত সভ্যতার বিপদ, নদী-নাশক প্রকল্প, অবৈজ্ঞানিক বাঁধ, খনন ও দূষণের বিরুদ্ধে এক নিরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধ।
বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন দৃঢ়ভাবে মনে করে—গঙ্গাকে বাঁচাতে হলে তার সমস্ত উপনদী, শাখা নদী, খাল, বিল, জলাভূমি, পুকুর ও প্রাকৃতিক জল ব্যবস্থাকে জীবিত রাখতে হবে। এগুলি ধ্বংস হলে দেশের জীবনরেখা গঙ্গার অস্তিত্বও টেকসই থাকবে না। আমরা “গঙ্গাকে অবিরল বইতে দাও” এই আহ্বানকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক জানাই। আমরা দাবি করছি—
১) গঙ্গা নদীর স্বাভাবিক ও অবিরল প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে;
২) গঙ্গা ও তার অববাহিকায় সকল ধরণের দূষণ ও লুণ্ঠন বন্ধ করতে হবে;
৩) নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং
৪) মাতৃসদন আশ্রমের দাবিগুলির প্রতি সরকারকে অবিলম্বে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমরা দেশের সর্বস্তরের মানুষ, পরিবেশপ্রেমী নাগরিক, সামাজিক আন্দোলন, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের কাছে আহ্বান জানাই—এই অসাধারণ ও নৈতিক সংগ্রামের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে দিন, সংহতি গড়ে তুলুন এবং গঙ্গাকে তার প্রাকৃতিক রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে যুক্ত হোন।
মন্তব্য