গ্রেট নিকোবর দ্বীপের প্রতি কলকাতায় “সংহতি অবস্থান”
কলকাতা, ২২ জুন ২০২৬

গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার দাবিতে কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে সংগঠিত হল “সংহতি অবস্থান”। “পিপলস অ্যালায়েন্স ফর ইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক সলিডারিটি (PAEDS)”-র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে গ্রেট নিকোবরকে ঘিরে যে বৃহৎ পরিকাঠামোগত প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা শুধুমাত্র একটি অঞ্চলের উপর প্রভাব ফেলবে না; এর প্রভাব পড়বে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস ও মানুষের অধিকার সংকোচনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় এই অবস্থান থেকে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রেট নিকোবর শুধু একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি অনন্য উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি বছরের পুরনো প্রাগৈতেহাসিক প্রাচীন অরণ্য, প্রবাল প্রাচীর, লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপসহ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, মেগাপড পাখি, লম্বা লেজ ম্যাকাক পাখিসহ অসংখ্য বিরল জীবের আবাসস্থল, এবং বহু প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী শম্পেন, নিকোবরিজদের মত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-সংস্কৃতি। এই প্রাকৃতিক সম্পদ শুধুমাত্র মানুষের ব্যবহারযোগ্য সম্পদ নয়, বরং তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব ও জীবনের অধিকার রয়েছে।
সংহতি অবস্থানে বক্তারা বলেন, শম্পেন ও নিকোবরিজ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এই দ্বীপের প্রকৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তাঁদের মতামত ও অধিকারকে উপেক্ষা করে কোনও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না। বক্তারা আরও বলেন, বৃহৎ প্রকল্পের কারণে বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং স্থানীয় আদি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উপর গভীর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করতে হবে।

সংহতি অবস্থান থেকে আহ্বান জানানো হয়— গ্রেট নিকোবরের অরণ্য, সমুদ্র, জীবজগৎ এবং আদিবাসী মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। পরিবেশগত ন্যায়, প্রাকৃতিক সম্বলগুলোর উপর সকলের অধিকার এবং বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার দাবিতে জনসচেতনতা ও গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সবার আগে আলোচনায় যোগ দিন।