গ্রেট নিকোবর দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র ও আদিবাসী অধিকার রক্ষার দাবিতে কলকাতায় সাধারণ সভা
কলকাতা, ২১ জুন ২০২৬

গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার দাবিতে কলকাতায় একটি সাধারণ সভার আয়োজন করল “পিপিলস অ্যালায়েন্স ফর ইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক সলিডারিটি”। তথাকথিত উন্নয়নের নামে প্রস্তাবিত বৃহৎ পরিকাঠামোগত প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সভায় উপস্থিত বক্তারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তথাকথিত উন্নয়নের নামে গ্রেট নিকোবরকে ঘিরে যে বৃহৎ পরিকাঠামোগত প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা শুধুমাত্র একটি অঞ্চলের উপর প্রভাব ফেলবে না; এর প্রভাব পড়বে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর। গ্রেট নিকোবর শুধু একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি অনন্য উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি বছরের পুরনো প্রাগৈতেহাসিক প্রাচীন অরণ্য, প্রবাল প্রাচীর, লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপসহ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, মেগাপড পাখি, লম্বা লেজ ম্যাকাক পাখিসহ অসংখ্য বিরল জীবের আবাসস্থল, এবং বহু প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী শম্পেন, নিকোবরিজদের মত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-সংস্কৃতি।

সভায় সমাজ ও পরিবেশ কর্মী গৌতম বন্দোপাধ্যায়, বিজ্ঞানী তপন সাহা, অধ্যাপক অরুণাভ মিশ্র, তাপস বিশ্বাস, ড. সালেহা বেগম, পুলক গোস্বামি, কল্লোল রায়, পিনাকী আচার্য, অর্জন বসু, অভিষেক ভৌমিক, বিজন পাল প্রমূখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, গ্রেট নিকোবরের প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক বহু প্রজন্মের। শম্পেন ও নিকোবরিজ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব এই দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই যে কোনও উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাদের অধিকার, মতামত এবং জীবনধারাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বক্তাদের অভিযোগ, জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথাকথিত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব এবং আদিবাসী অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের মতে, এর প্রভাব শুধু নিকোবরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৃহত্তর পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও পড়তে পারে।
সভা থেকে বলা হয়, মানুষের প্রয়োজন ও প্রকৃতির অস্তিত্বকে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখা উচিত নয়। পরিবেশগত ন্যায়, সর্বজনীন প্রাকৃতিক সম্বল গুলোর উপর সকলের অধিকার এবং বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রেখেই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করতে হবে।

এদিন এই সভায় জোটের অন্যতম শরিক সংগঠন “বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন” এবং “দ্য ডিগ্রোথ” (প্রতিরোধের গণমাধ্যম) এর পক্ষ থেকে সুমন মাইতির লেখা “দি লাস্ট আইল্যান্ড - গ্রেট নিকোবর: এট দি এজ অফ ইরেজার” শীর্ষক বই প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় “একটি সুপ্রাচীন দ্বীপের ইতি-কথা” বইটি অনুবাদ করেছেন অর্পিতা ভট্টাচার্য্য।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেট নিকোবরের বাস্তুতন্ত্র ও সেখানকার মানুষের অধিকারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী দিনেও সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। গোকুলানন্দ গোস্বামি, সুস্মিতা মন্ডল ও সঞ্জয় দাস যৌথভাবে সভাটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনা 1 comment