মহাবর্তের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভারত
মতামত/বিশ্লেষণ

মহাবর্তের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভারত

এই নিবন্ধটি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব এবং এর ফলে ভারতের শ্রমজীবী মানুষের উপর যে চরম দুর্দশা নেমে আসছে, তা তুলে ধরেছে। বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর সংকটের অংশ। এই সংকটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারাই, যারা এই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী নন। ভারতের প্রায় ৪৫ কোটি শ্রমজীবী মানুষ, যারা কৃষি, নির্মাণ এবং অন্যান্য অরক্ষিত খাতে কাজ করেন, তারা সরাসরি এই জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছেন। তাদের সুরক্ষার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই, এবং তারা চরম শারীরিক ও আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। নিবন্ধটি এই সংকট মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর…

আলোচনা 3 comments

উত্তর দিচ্ছেন
Gautam Bandyopadhyay
Gautam Bandyopadhyay 01/06/2026 16:32
Need little discussion on the usage of Renewable energy and the politics of Fossil fuel..., Are there any space of transition of Fossil fuel to Renewable may reduce the heat..., Todays the growth itself carbon emissions based development so, struggle is to change the Development Paradigm and System change that may help to address the Climate change....... Towards Climate Justice
Pinaki Acharya
Pinaki Acharya 01/06/2026 17:31
We need to have serious discussion on this issue
anonymous
anonymous 01/06/2026 19:36
Thank you, Gautam Bandyopadhyay for your valuable concern.
The piece does address the renewable-fossil politics directly. The Adani Group holds both coal and solar assets simultaneously — so for them, transition is not a solution, it is just another profit stream. And Coal India is committed to expanding production through 2030, meaning the state itself is standing against transition. Simply switching fuels will not reduce the heat unless the same concentrated interests stop controlling both fossil and renewable policy. That structural capture is exactly what needs to change. So yes — System Change is the demand. And Climate Justice is impossible without it.
মতামত/বিশ্লেষণ

মহাবর্তের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভারত

তীব্র দাবদাহ, তপ্ত মহাসাগর, অকাল দাবানল কিংবা আকস্মিক অতিবর্ষণ—এগুলি ভিন্ন ঘটনা নয়, বরং একই অসুস্থ পৃথিবীর আলাদা উপসর্গ। এগুলি এক অখণ্ড, ঘূর্ণায়মান বিপর্যয়-ব্যবস্থা, যার নিমিত্তের বলি হয়ে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে তাঁদের, যাঁদের এই সংকট সৃষ্টিতে দায় সবচেয়ে কম।

1780288946800

শুরুটা করা যাক মাত্র ০.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস দিয়ে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO: World Meteorological Forum) 'স্টেট অব দ্য ক্লাইমেট ইন এশিয়া ২০২৩' প্রতিবেদন জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় এশিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি ঠিক এই পরিমাণ বেশি। আপাতদৃষ্টে একে সামান্য মনে হতেই পারে, কিন্তু প্রকৃতির হিসাব বড় নির্মম। একটি নির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল তাপমাত্রার ভারসাম্যের ওপর যে আবহমণ্ডল টিকে আছে, সেখানে ডিগ্রির এই সামান্য ভগ্নাংশই সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট —মৌসুমি বায়ুর সময়সূচি, মাটির অন্তর্নিলিত আর্দ্রতা, দাবানলের স্ফুলিঙ্গ কিংবা খোলা আকাশের নিচে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটার শারীরিক সক্ষমতা। ভারতবর্ষ এই আসন্ন সংকটের দিকে কেবল এগিয়ে চলেছে না; সে ইতিমধ্যেই সেই প্রলয়ের গর্ভে দাঁড়িয়ে আছে।

আর এই রূঢ় বাস্তবতাকে কোনো তাত্ত্বিকতার আবরণ ছাড়াই সরাসরি নিজের শরীর দিয়ে টের পাচ্ছেন দেশের প্রায় পঁয়তাল্লিশ কোটি শ্রমজীবী মানুষ। 'অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩-২৪' অনুযায়ী, এই বিশাল জনসংখ্যা জলবায়ু সংকটের মুখে সরাসরি অরক্ষিত খাতগুলোতে (যেমন—কৃষি, নির্মাণকাজ, মৎস্য শিকার ও উন্মুক্ত প্রান্তরে হকারি) কর্মরত। তাঁদের সুরক্ষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বর্ম নেই, নিয়োগকর্তার তরফে শরীর জুড়োনোর কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো সবেতন অসুস্থতার ছুটিও। 'পর্যায়বৃত্ত শ্রমশক্তি জরিপ' (PLFS Periodic Labour Force Survey) স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের কোনো লিখিত চুক্তিপত্রই নেই। ফলে, শ্রমিকের কাঁধ থেকে মালিকের ওপর স্থানান্তরের কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সেতু তৈরি হয়নি। এই স্থানান্তর সম্ভবও নয়, কারণ তাঁদের মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কটি কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামোর ধার ধারে না। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে—শ্রমিককে এই মারণ কামড় হজম করতে হচ্ছে নিজের রক্তমাংসের শরীর দিয়ে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD India Meteorological Department) ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাসে দেশের ১৬টি রাজ্যে একযোগে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছিল। ওড়িশা ও তেলেঙ্গানায় সে সময় 'ওয়েট-ব্লাব' (wet-bulb) তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিপজ্জনক সীমা ছুঁয়ে ফেলেছিল—যে সীমার ওপারে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (thermoregulation) পুরোপুরি ভেঙে পড়ে; শরীরে যতই জল থাক না কেন, তা আর প্রাণ বাঁচাতে পারে না। মে মাস জুড়ে রাজধানীতে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ঋতুগত গড়ের চেয়ে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। যখন রাতও তপ্ত থাকে, তখন ঘুম আর শরীরবৃত্তীয়ভাবে পর্যাপ্ত থাকে না। দিনের বেলার তীব্র ক্লান্তি ও ধকল কাটিয়ে ওঠার যে সময়টুকু শরীরের প্রয়োজন, তা অপূর্ণই থেকে যায়। এই পুঞ্জীভূত শারীরিক অবক্ষয় কেবল যোগ হয় না, তা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়নের ভিত্তিরেখার চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণতায় পৌঁছেছে—যা পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রধান মহাসাগরীয় অববাহিকার চেয়ে দ্রুততর। এটি মৌসুমি বায়ুকে টেনে আনার পেছনে যে তাপমাত্রার তারতম্য কাজ করে, তাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। বিদর্ভে, ২০২৩ সালের খরিফ মরশুমে জুলাই পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ৬২ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে মাঠ শুকিয়ে খরা দেখা দেয়। এরপর আগস্টে যখন বুক বেঁধে নতুন করে ফসল রোপণ করা হলো, তখন মাত্র একটি আকস্মিক অতিবর্ষণের বন্যায় পুরো খেত জলের নিচে তলিয়ে গেল। এই চরম বৈপরীত্যই হলো জলবায়ু পরিবর্তনের আসল সংকেত।

"আমি এখন আর আস্ত একটা মরশুমের কৃষি করি না। আমি এক সপ্তাহ, বড়জোর তিন দিনের পরিকল্পনা করি, কারণ শরীরে আর পারিনা। এর পর আকাশ কী রূপ ধারণ করবে, তা আমার জানা নেই।"

রাজু ঠাকরে (৫৪), ওয়ার্ধা জেলার কৃষক। তিনি ৩.২ একর বৃষ্টি-নির্ভর জমিতে সয়াবিন চাষ করেন। গত তিন বছরে তিনি দুবার ফসলের জাত পরিবর্তন করেছেন এবং দু-দুটি ঋণ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁর কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২,০০০ টাকা। এই কথা তিনি এখনো তাঁর স্ত্রীর সাথে ভাগ করে নিতে পারেননি। বিদর্ভে, রাজু ঠাকরে কোনো ব্যতিক্রমী চরিত্র নন, বরং এটাই ওখানকার সাধারণ কৃষকের আটপৌরে বাস্তব।

এই সংকটের আর্থ-সামাজিক সঞ্চারণ সরাসরি ও ক্ষমাহীন। ম্যাককিনসের (McKinsey & Company) ২০২০ সালের এক বিশ্লেষণে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাপপ্রবাহজনিত শ্রম-উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে ভারতের জিডিপির (GDP Gross Domestic Product) ২.৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ ক্ষতি হবে—যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত রক্ষণশীল এবং কম করে ধরা হয়েছে বলেই মনে হয়। নাবার্ডের (NABARD National Bank for Agriculture and Rural Development) জরিপের তথ্য এই ধ্বংসাত্মক চক্রটিকে নগ্ন করে দেয়: ফসলহানি গ্রামীণ মানুষকে বাধ্য করে চড়া সুদে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিতে, সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে ঘটিবাটি ও শেষ সম্বল বিক্রি করতে হয়, আর এই সম্পদহীনতা পরবর্তী ধাক্কা সামলানোর ন্যূনতম সামর্থ্যটুকুও কেড়ে নেয়। 'ল্যানসেট কাউন্টডাউন' সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা—যারা মূলত নিম্নআয়ের পরিবারভুক্ত—টানা দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারতের বস্তি ও অনিয়ন্ত্রিত আবাসন এলাকাগুলো, যেখানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ টিনের চালের নিচে মাথা গুঁজে আছেন, সেখানে দাবদাহের সময় ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়ে যায়। 'নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ' পত্রিকার গবেষণা অনুযায়ী, এই জনপদগুলোতে দাবদাহের দিনগুলিতে অকাল প্রসব (preterm birth) এবং কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। জলবায়ুজনিত ক্ষতির এই প্রজন্মগত সঞ্চারণ (intergenerational transmission) ইতিমধ্যেই পরিমাপযোগ্য। কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা আছে এমন কোনো মন্ত্রণালয়ই এটি পরিমাপ করতে চাইছে না। কারণ, সততার সাথে এই হিসাব কষতে গেলে সেই অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হতে হবে যা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রমাণিত: পরিবেশগত ত্যাগের বিনিময়ে সমৃদ্ধি অর্জনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—যা ভারতের প্রতিটি উন্নয়ন কাঠামোর মূল ভিত্তি—তা সেইসব মানুষের ক্ষেত্রে রক্ষা করা হয়নি যারা এর পরিবেশগত মূল্য চুকিয়েছে। এই ব্যবস্থাটি কখনোই তাঁদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়নি। আসল সংকট প্রবৃদ্ধি নিজে নয়, বরং প্রবৃদ্ধির এমন এক ত্রুটিপূর্ণ মডেল যা মুনাফাকে ব্যক্তিমালিকানাধীন করে আর পরিবেশগত বিপর্যয়কে সামাজিকীকরণ করে। এই 'প্রবৃদ্ধি' একটি মিথ্যাচার। এটি কোনো ভুলভাবে পরিচালিত নীতি নয়; এটি পঁয়তাল্লিশ কোটি মানুষের সাথে দশকের পর দশক ধরে করা এক চতুর প্রতারণা, যেখানে লোকসানটা সবসময় ছিল সাধারণ মানুষের আর লাভটা গেছে অন্য কোথাও।

হিমালয় বলয়, মধ্য ভারত এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাম্প্রতিক দাবানল ক্রমবর্ধমান উত্তাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার পরিবেশগত ক্ষতিকে আরও উম্মুক্ত করে দিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে ধরা পড়া হাজার হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করেছে, মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস করেছে এবং বনের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করেছে। ধীরগতির সাড়াদান ব্যবস্থা, দুর্বল বন সুরক্ষা সক্ষমতা এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক চাপ—উভয় ক্ষেত্রেই ধ্বংসের মাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদী জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

1780289310898

কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক মীনা মেনন গত দুই দশক ধরে নির্মাণকাজে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, "আগে মে মাসে মাত্র কয়েকটা দিন অসহ্য গরম থাকত, আর এখন তা টানা ছয় সপ্তাহের নরকযন্ত্রণা। আমাদের কর্মীদের এখন এক অসম্ভব বিকল্পের মুখোমুখি হতে হয়—হয় বিপজ্জনক গরমের মধ্যে কাজ করো, না হয় কাজ হাতছাড়া করো। ঠিকাদারের কোনো ক্ষতি হয় না, ক্ষয় হয় শ্রমিকের শরীরের।" শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে তাঁর ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও কোনো বাধ্যতামূলক নিয়মনীতি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালের পেশাগত সুরক্ষা বিধিটি পাস হওয়ার আগে, শিল্প গোষ্ঠীগুলোর আপত্তির মুখে এবং প্রকল্পের সময়সীমা ঠিক রাখার অজুহাতে, সেটিকে কেবল 'পরামর্শমূলক' স্তরে নামিয়ে আনা হয়। যে ৫০ কোটি শ্রমিকের শরীর এই সময়সীমার বোঝা বহন করে, তাঁদের সাথে কোনো পরামর্শই করা হয়নি। সাধারণত তাঁদের সাথে কখনোই করা হয় না।

এখানেই এই ব্যবস্থার মূল কাঠামোগত নকশাটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড—একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যার বোর্ডে কয়লা মন্ত্রণালয়ের মনোনীত ব্যক্তিরা রয়েছেন—বার্ষিক ৭০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি কয়লা উৎপাদন করে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, আদানি গ্রুপ একই সাথে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি কয়লা সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং প্রধান সৌরশক্তি ও বন্দর চুক্তির মালিক, যাদের নিয়ন্ত্রণকারী ছাড়পত্র আসে এমন সব মন্ত্রণালয় থেকে যাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বার্থ এই কর্পোরেট গোষ্ঠীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখন একটি একক শিল্পগোষ্ঠী সংকট (কয়লা) এবং আংশিক সমাধান (সৌরশক্তি)—উভয় পক্ষ থেকেই মুনাফা লুট করে, তখন সেই সংকট সমাধানের আসল সদিচ্ছা উবে যায়। কৃষিক্ষেত্রে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP Minimum Support Price) ব্যবস্থা—যাকে কৃষক কল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়—তা একই সাথে চম্বল ফার্টিলাইজার্স এবং কোরোমন্ডল ইন্টারন্যাশনালের মতো সার প্রস্তুতকারক কর্পোরেটগুলোর জন্য নিশ্চিত রাজস্বের উৎস হিসেবে কাজ করে, যাদের মুনাফা নির্ভর করে জলশূন্য বা অতি-শোষিত অঞ্চলে জল-নিবিড় চাষাবাদ অব্যাহত রাখার ওপর। কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল কর্তৃপক্ষের (CGWA Central Ground Water Authority) অতিরিক্ত জল উত্তোলন সীমিত করার সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তাদের আইন প্রয়োগের রেকর্ড শূন্যের কোঠায়।

২০২০ সালের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA Environmental Impact Assessment) বিজ্ঞপ্তি, যা সংবেদনশীল অঞ্চলে অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য গণশুনানির প্রয়োজনীয়তাকে দুর্বল করেছিল, তা এমন এক সময়ে তৈরি করা হয়েছিল যখন প্রধান লবিং গ্রুপগুলো মন্ত্রণালয়ের কাছে অলিখিত ও অপ্রকাশিত তদবির চালাচ্ছিল। বিজ্ঞপ্তিটি পাস হয়েছিল, কিন্তু সেই তদবিরের নথিপত্র কখনোই জনসমক্ষে আনা হয়নি। এর প্রত্যেকটি পদক্ষেপ—জনপরামর্শের সময়সীমা কমিয়ে আনা, কেবল পরামর্শমূলক সুরক্ষা কোড তৈরি করা, ভূগর্ভস্থ জল আইনের প্রয়োগ না করা—সবকিছুই জনসমক্ষে 'উন্নয়নের' ভাষায় জায়েজ করা হয়েছিল। রাস্তা বানাতে হবে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, বিনিয়োগে বিলম্ব করা যাবে না। 'উন্নয়ন' শব্দটি এখানে মোটেও আনুষঙ্গিক নয়। বরং সমগ্র কাঠামোটিই এর উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই একটি শব্দের কারণেই সাধারণ মানুষ ত্যাগ স্বীকার করে নেয়, প্রতিশ্রুত সুদিনের অপেক্ষায় থাকে এবং অবশেষে যখন জলস্তর শেষ হয়ে যায়, বন ছাই হয়ে যায় এবং মৌসুমি বায়ু আর সময়মতো আসে না, তখন বুঝতে পারে যে তাদের জন্য আসলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই 'উন্নয়ন' একটি মরীচিকা মাত্র। যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়েছে, টিকিয়ে রাখা হয়েছে এবং এর অর্থায়ন করা হয়েছে সেইসব মানুষের পরিবেশগত পুঁজি ধ্বংস করে, যাদের বলা হয়েছিল যে তারাই এর মূল সুবিধাভোগী।

ভারতের জলবায়ু সুশাসনের এই সুগভীর ঘাটতি কোনো অজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতার কারণে নয়। এর মূল কারণ হলো, পরিবেশগত কঠোর নিয়মনীতি কার্যকর হলে যাদের সবচেয়ে বেশি লোকসান হবে, নীতি-নির্ধারকদের কক্ষে তাদেরই অবাধ ও নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। আর যে জনগোষ্ঠী এই সংকটের পুরো মূল্য চকাচ্ছে—বৃষ্টি-নির্ভর কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, বস্তিবাসী, উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—তারা সেই নীতিনির্ধারণী কক্ষে অনুপস্থিত। তারা বাইরে, তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে মাত্র তিন দিনের পরিকল্পনা করছে, আর এমন এক বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে যা এখন আর সময়মতো আসে না, আর যখন আসে তখন সহজে বিদায় নিতে চায় না।

"ভারতের জলবায়ু সুশাসনের এই ঘাটতির কারণ অজ্ঞতা নয়, এর কারণ ক্ষমতা।"

নিষ্ক্রিয়তার স্থাপত্য: অর্থের উৎস সন্ধান

ভারতের জলবায়ু সুশাসনে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের এই মেলবন্ধন আকস্মিক নয়—এটি কাঠামোগত এবং তথ্যপ্রমাণসিদ্ধ। পুরো ধারাবাহিকতাটি লক্ষ করুন: কয়লা মন্ত্রণালয় কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের বোর্ডে সদস্য মনোনীত করছে এবং একই সাথে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর অনুমোদন দিচ্ছে; আর এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাদের ঝুঁকি মূল্যায়ন কাঠামোয় কয়লা খনি অচল বা অলাভজনক হয়ে পড়ার (stranded-asset) কোনো হিসাবই রাখা হয় না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়—যাদের নামমাত্র দায়িত্বই হলো পরিবেশগত ক্ষতি সীমিত করা—তারা ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১০৫টি কয়লা খনি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যা লোকসভায় পেশ করা তথ্যে প্রমাণিত।

২০২০ সালের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বিজ্ঞপ্তিটি কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। রাইট টু ইনফরমেশন (RTI) আইনের অধীনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ (CPR Centre for Policy Research)-এর সংকলিত খসড়া বিশ্লেষণ দেখায় যে, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড (FICCI Federation of Indian Chambers of Commerce and Industry) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII Confederation of Indian Industry)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংগঠনগুলো খসড়া ভাষা পরিবর্তনের জন্য বিশদ তদবির করেছিল। অথচ একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের গ্রামসভাগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং জনপরামর্শের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ২০ দিন করা হয়েছিল।

কয়লা, সৌরশক্তি, বন্দর অবকাঠামো এবং বিমানবন্দর বেসরকারীকরণে আদানি গ্রুপের একযোগে উপস্থিতি কেবল প্রচলিত অর্থে স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) নয়; এটি আসলে একটি সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক বেড়া বা 'হেজ' (hedge): জীবাংশ জ্বালানির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এই গোষ্ঠী লাভবান হয়, আবার যদি বন্দরের মতো নিজস্ব অবকাঠামোর মাধ্যমে সবুজ জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত হয়, তবেও তাদেরই মুনাফা নিশ্চিত হয়। ভারতের বন্দর চুক্তি বরাদ্দের সময়সীমার সাথে আদানির কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণকারী ছাড়পত্রের তুলনা করলে একটি স্পষ্ট পারস্পরিক স্বার্থের বিন্যাস দেখা যায়, যা দেশের কোনো স্বাধীন প্রতিযোগিতা কমিশন খতিয়ে দেখেনি। ভারতে, প্রতিযোগিতা কমিশন (CCI) বৃহৎ কর্পোরেটগুলোর জলবায়ু-সম্পর্কিত সম্পদ পুঞ্জীভবনের বিষয়ে কোনো তদন্ত শুরু করেনি। কোনো সংসদীয় কমিটিও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে লবিং বা তদবিরের গোপন নথিপত্র তলব করেনি। এগুলো কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; এগুলো সুপরিকল্পিত ফলাফল।

এই কাঠামোয় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ব্যবস্থার ভূমিকাও সমভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম এবং ধানের জন্য দেওয়া মূল্য সহায়তা মূলত এমন সব ফসলের পেছনে সরকারি ভর্তুকি অপচয় করছে, যার চাষাবাদ ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল বোর্ডের (CGWB) ২০২৩ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই দুই রাজ্যের ১৬টি জেলাকে জল উত্তোলনের ক্ষেত্রে 'অতি-শোষিত' (overexploited) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অথচ ২০২১ সাল থেকে ধানের এমএসপি ১২ শতাংশ বেড়েছে। কোনো বাজেট নথিতে এই দুই বিপরীতমুখী সরকারি নীতিকে কখনোই সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে যারা লাভবান হচ্ছে—যেমন বড় সরকারি সংগ্রহকারী সংস্থা এবং সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—পরিকল্পনা কমিশন বা নীতি নির্ধারণী বডিগুলোতে তাদের নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কিন্তু বিদর্ভের যে কৃষকেরা জলস্তর নেমে যাওয়ার চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছেন, নীতিনির্ধারণে তাদের কোনো কণ্ঠস্বর নেই।

1780289447229

প্রকৃত সংস্কারের জন্য যা প্রয়োজন

এখানে যেসব ঘাটতি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো মূলত কোনো আইনি ঘাটতি নয়। ভারতের পরিবেশ আইন আছে, পেশাগত সুরক্ষা বিধি আছে এবং একটি সংবিধাবের ভূগর্ভস্থ জল কর্তৃপক্ষও রয়েছে। আসল ঘাটতি হলো প্রয়োগ কাঠামো এবং স্বার্থের সংঘাত থেকে নীতিকে দূরে রাখার অলঙ্ঘ্য প্রাচীর তৈরিতে—আর এই দুটি বিষয়ই কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী বা নতুন আর্থিক বরাদ্দ ছাড়াই সমাধান করা সম্ভব।

● তালিকাভুক্ত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগগুলোর (PSUs) জন্য বাধ্যতামূলক জলবায়ু তথ্য প্রকাশ: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (SEBI) ২০২৩ সালে ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা ও স্থায়িত্ব প্রতিবেদন (BRSR) বাধ্যতামূলক করেছে, কিন্তু 'কৌশলগত' তকমা দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর আওতামুক্ত রেখেছে। কোল ইন্ডিয়া, এনটিপিসি (NTPC) এবং ওএনজিসি (ONGC)—এই তিনটি বৃহত্তম সরকারি কার্বন নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের পরোক্ষ নির্গমন বা 'স্কোপ ৩' (Scope 3) সংক্রান্ত কোনো প্রমিত তথ্য প্রকাশ করে না। বেসরকারি খাতের মতো তাদেরও একই কাঠামোর অধীনে আনা কোনো নতুন আইনের বিষয় নয়; এর জন্য কেবল একটি সেবি (SEBI) সার্কুলারই যথেষ্ট। এই সার্কুলারের খসড়া তৈরি করা হলেও তা এখনো জারি করা হয়নি।

● নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতাসহ বাধ্যতামূলক তাপপ্রবাহ প্রটোকল: জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDMA) ২০২৩ সালের তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলো এখনো কেবল পরামর্শমূলক রয়ে গেছে। ১৭টি রাজ্য স্থানীয়ভাবে তাপপ্রবাহ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলেও, জেলা প্রশাসনের ওপর এর প্রয়োগের দায়িত্ব রয়েছে—যাদের নির্মাণ ঠিকাদার বা ইটভাটা মালিকদের জরিমানা করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা বা আইনি ম্যান্ডেট নেই। এই পরামর্শমূলক ভাষাকে পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ বিধির (Occupational Safety, Health and Working Conditions Code) ধারাভুক্ত করা কেবল একটি সদিচ্ছার ব্যাপার, যা শ্রম মন্ত্রণালয়ের আইনি সেলের করার মতো কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৩ সালের সংশোধনীতে এই পথটি না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।

● নিয়ন্ত্রণকারী পদের নিয়োগ এবং শিল্পের মধ্যে অলঙ্ঘ্য প্রাচীর: পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়ার (EIA) প্রক্রিয়াটি গোড়াতেই গলদপূর্ণ হয়ে পড়ে যখন যে মন্ত্রণালয় ছাড়পত্র দেয়, তারাই মূল্যায়নকারী কর্মকর্তাদের কার্যকাল ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিযোগিতা কমিশনের আদলে একটি স্বাধীন 'পরিবেশ ছাড়পত্র পর্যালোচনা কর্তৃপক্ষ' (Environmental Clearance Review Authority) গঠন করতে নতুন কোনো খরচের প্রয়োজন নেই; এর জন্য কেবল একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি এবং লোকসভার একটি প্রস্তাবই যথেষ্ট। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুবার এই কাঠামোর সুপারিশ করেছিল। উভয় সুপারিশই নীতিগতভাবে স্বীকার করা হলেও পরে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

● এমএসপি-র সাথে ভূগর্ভস্থ জলের যোগসূত্র: খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে যে ফসল ধ্বংস করছে, তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। অতি-শোষিত জেলাগুলোর কৃষকদের কম জল-নিবিড় ফসলে স্থানান্তরিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক 'রূপান্তর প্রমিয়াম' (transition premium) দেওয়া যেতে পারে, যার খরচ পাঞ্জাবে ধান ক্রয়ের জন্য দেওয়া বিশাল ভর্তুকির একটি ভগ্নাংশ মাত্র। নাবার্ড (NABARD) এর একটি সফল মডেল তৈরি করে রেখেছে। মডেলটি প্রস্তুত, কিন্তু বড় মধ্যস্বত্বভোগী ও কর্পোরেটদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার political উইলটি এখনো অনুপস্থিত।

● লবিং বা তদবিরের বিধিবদ্ধ প্রকাশ: ২০২০ সালের ইআইএ বিজ্ঞপ্তির রূপরেখা তৈরি করা পর্দার আড়ালের তদবিরগুলো গোপন থাকা উচিত ছিল না। একটি বিধিবদ্ধ লবিং রেজিস্টার বা তদবির নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন—যেখানে কোনো খসড়া নীতিমালার বিষয়ে কোনো সংস্থা মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো আবেদন বা প্রতিনিধিত্ব করলে, তা ৩০ দিনের মধ্যে একটি পাবলিক ডাটাবেসে প্রকাশ করতে হবে। এটি নীতি তৈরিতে শিল্পের অংশগ্রহণকে বাধা দেবে না, তবে সেই অংশগ্রহণকে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান করবে। জবাবদিহিতার প্রধান শর্তই হলো স্বচ্ছতা। ভারতের এটি বাস্তবায়নের সমস্ত প্রশাসনিক অবকাঠামো রয়েছে; ২০০৮ সালে দ্বিতীয় প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন এই সুপারিশ করেছিল, যা আজও কার্যকর করা হয়নি।

এগুলোর কোনোটিই চরমপন্থী বা বৈপ্লবিক প্রস্তাব নয়। এর জন্য ভারতকে তার উন্নয়নের গতিপথ কিংবা জ্বালানি সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হবে না। এর জন্য শুধু প্রয়োজন জলবায়ু ক্ষতির মুখে সবচেয়ে বেশি থাকা মানুষগুলোর নীতি নির্ধারণের কক্ষে সমঅধিকার নিশ্চিত করা—ঠিক যেভাবে সুরক্ষিত পুঁজিপতিরা পেয়ে থাকে। অতিরিক্ত ০.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মৌসুমি বায়ুর ব্যর্থতা কিংবা ভারত মহাসাগরের উষ্ণায়ন নয়—এই সুশাসনের চরম বৈষম্যই হলো এই মুহূর্তের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তবে এটিই আবার সবচেয়ে সহজে সংশোধনযোগ্য।

যে জনগোষ্ঠী এই সংকটের পুরো মূল্য চকাচ্ছে—বৃষ্টি-নির্ভর কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, বস্তিবাসী, উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—তারা সেই নীতিনির্ধারণী কক্ষে নেই। তারা বাইরে, তীব্র তাপদাহে দাঁড়িয়ে মাত্র তিন দিনের পরিকল্পনা করছে, আর এমন এক বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে যা এখন আর সময়মতো আসে না, আর যখন আসে তখন সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রশ্ন এটাই নয় যে ভারত এই সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে কি না; প্রশ্ন হলো, এই কাঠামোগত নিষ্ক্রিয়তা থেকে যারা প্রতিনিয়ত লাভবান হচ্ছে, তারাই দেশের ভাগ্য নির্ধারণের চূড়ান্ত অধিকারী থাকবে কি না।

অনুবাদক: শর্মিতা ভট্টাচার্য

তথ্যসূত্র:

• বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এশিয়ার জলবায়ুর অবস্থা ২০২৩

• ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর, পপ্রবাহ (হিটওয়েভ) বুলেটিনসমূহ ২০২৪

• জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স, ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার

• ভারতের কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল বোর্ড, বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩

• জাতীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাংক, সর্বভারতীয় গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সমীক্ষা

• ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউট, এশিয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রতিক্রিয়া

• ল্যানসেট কাউন্টডাউন দক্ষিণ এশিয়া

• নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রজননস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব

• ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩–২৪

• মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড তথ্যভান্ডার

• সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA)সংক্রান্ত বিশ্লেষণ

• ভারতের লোকসভায় উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত ও তারকাবিহীন প্রশ্নসমূহ, কয়লা প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র/অনুমোদন ২০১৪–২০২৩

• ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি, ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা ও স্থায়িত্ব প্রতিবেদন কাঠামো ২০২৩

• দ্বিতীয় প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, প্রতিবেদন ২০০৮

• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা নির্দেশিকা ২০২৩

শব্দার্থ ও সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যাখ্যা:

• বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organization – WMO)

• ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (India Meteorological Department – IMD)

• মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product – GDP)

• জাতীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাংক (National Bank for Agriculture and Rural Development – NABARD)

• ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (Minimum Support Price – MSP)

• পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment – EIA)

• ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মহাসঙ্ঘ (Federation of Indian Chambers of Commerce and Industry – FICCI)

• ভারতীয় শিল্প সম্মেলন (Confederation of Indian Industry – CII)

• জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন (National Thermal Power Corporation – NTPC)

• তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশন (Oil and Natural Gas Corporation – ONGC)

• ভারতের সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ বোর্ড (Securities and Exchange Board of India – SEBI)

• সরকারি খাতের উদ্যোগসমূহ (Public Sector Undertakings – PSUs)

• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (National Disaster Management Authority – NDMA)

• তথ্যের অধিকার আইন/তথ্য জানার অধিকার (Right to Information – RTI)

আলোচনা 3 comments

উত্তর দিচ্ছেন
Gautam Bandyopadhyay
Gautam Bandyopadhyay 01/06/2026 16:32
Need little discussion on the usage of Renewable energy and the politics of Fossil fuel..., Are there any space of transition of Fossil fuel to Renewable may reduce the heat..., Todays the growth itself carbon emissions based development so, struggle is to change the Development Paradigm and System change that may help to address the Climate change....... Towards Climate Justice
Pinaki Acharya
Pinaki Acharya 01/06/2026 17:31
We need to have serious discussion on this issue
anonymous
anonymous 01/06/2026 19:36
Thank you, Gautam Bandyopadhyay for your valuable concern.
The piece does address the renewable-fossil politics directly. The Adani Group holds both coal and solar assets simultaneously — so for them, transition is not a solution, it is just another profit stream. And Coal India is committed to expanding production through 2030, meaning the state itself is standing against transition. Simply switching fuels will not reduce the heat unless the same concentrated interests stop controlling both fossil and renewable policy. That structural capture is exactly what needs to change. So yes — System Change is the demand. And Climate Justice is impossible without it.
আমাদের লক্ষ্য

আমরা নিজেদেরকে “প্রতিরোধের গণমাধ্যম” হিসেবে দেখি।

জীবের বহুসংকটকে, জীবের বহুদুঃখকে আমরা মধ্যমপ্রতিপদের অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করি, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, এবং বৃহত্তর বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন ও বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি জোটের সাথে হাত মিলিয়ে তাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

যোগাযোগ করুন

ইমেল: thedegrowthofficial.com