কলকাতা, ১৯ জুলাই ২০২৬:
দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর দিল্লি পুলিশের বর্বর দমনপীড়ন ও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাল দেশের নাগরিক সমাজ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং চলমান ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে রবিবার কলকাতার ব্যস্ততম গড়িয়াহাট চত্বরে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এক দিনের প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। "সমালোচনামূলক বামপন্থার সমর্থক"-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহরের শতাধিক মানুষ অনশনে অংশ নেন এবং সায়স্ফূর্তভাবে যোগ দেন দ্বিশতাধিক মানুষ, জানালেন এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোক্তা শ্রীমতি রোহিনী ধর্মপাল।

নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়িয়াহাটের এই অনশন মঞ্চ এক শক্তিশালী প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
অনশন মঞ্চ থেকে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত নাগরিকদের বলপ্রয়োগ করে তুলে নিয়ে যাওয়া কেবল অগণতান্ত্রিকই নয়, এটি সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। বক্তারা সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর সহযোদ্ধাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পূর্ণ সুনিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ ও শিক্ষার প্রশ্নে উত্থাপিত দাবিগুলির প্রতি সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জোরালো দাবি জানান।
তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান কখনোই পুলিশি দমনপীড়ন বা ভীতিপ্রদর্শনের মাধ্যমে হতে পারে না; সমাধান খুঁজতে হবে আলোচনার পথেই।"
[]()দিনভর চলা এই কর্মসূচির
আবহ ছিল অত্যন্ত সংহতিপূর্ণ ও প্রতিবাদমুখর। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে ধ্বনিত হয়েছে গণতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা। প্রতিবাদ কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে।
এদিনের এই সংহতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং নানা পরিবেশন ও বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেন।

বক্তৃতা ও সংহতি বার্তা
বস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন থেকে বক্তব্য রাখেন সঞ্জয় দাস ও তাপস বিশ্বাস। আইলাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দিবাকর মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়া মূল্যবান বক্তব্য ও সংহতি জানান অমলেন্দু ভূষণ চৌধুরী, অনুরাগ মৈত্রেয়ী, নন্দিতা তিতলি, শুভারুণ, অরিত্র দে, চিরশ্রী মুখোপাধ্যায়, কৌস্তভ, সুতনুকা ভট্টাচার্য, ড. শতাব্দী মিত্র, সৌমিত্র বসু এবং নাট্যকার চন্দন সেন। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও লেখিকা জয়া মিত্র তাঁর মূল্যবান শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আবৃত্তি:
গণ বিষাণ-এর পরিবেশনায় গান পরিবেশন করা হয়। রঙরূপ-এর পক্ষে সীমা মুখোপাধ্যায় এবং সন্দীপ রায় অংশগ্রহণ করেন। গান পরিবেশন করেন 'রূপকথা' এবং তরুণ কান্তি সরকার। আবৃত্তিতে অংশ নেন শমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুক্লা বসু। পারফরমেন্সে নজর কাড়েন দেবদত্তা আশীর্বাণী এবং শক্তি রায় চৌধুরী।

আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, এই প্রতীকী অনশন নিছক একজন ব্যক্তির প্রতি সংহতি প্রদর্শনের জন্য নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষার ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রতি অটুট সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
'দ্য ডিগ্রোথ নিউজ ডেস্ক'-এর পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ছাত্র-যুবদের এই প্রতিরোধ কেবল শিক্ষা বা পরিবেশ রক্ষার লড়াই নয়—এটি কর্পোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং প্রকৃত পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠার এক অমূল্য লড়াই। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা এই সমস্ত জনমুখী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে থাকতে এবং প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এ ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সর্বদাই জরুরি।
দেশজুড়ে গণতন্ত্রপ্রেমী সকল মানুষকে এই ধরনের প্রতিরোধে আরও বৃহত্তর সংখ্যায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সফলভাবে এই দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
Be the first to join the discussion.