দিল্লীর যন্তর মন্তরে চলমান অহিংস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং অনশন আন্দোলন
অন্যান্য

দিল্লীর যন্তর মন্তরে চলমান অহিংস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং অনশন আন্দোলন

দেশের রাজধানী দিল্লীর যন্তর মন্তরে NEET পরীক্ষার প্রশ্ন লিক হওয়ার বিরুদ্ধে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবীতে চলমান অহিংস ও শান্ত…

আলোচনা 1 comment

উত্তর দিচ্ছেন
anonymous
anonymous 08/07/2026 18:09
এমন ঐক্য ও সংহতির মেলবন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য!
অন্যান্য

দিল্লীর যন্তর মন্তরে চলমান অহিংস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং অনশন আন্দোলন

দেশের রাজধানী দিল্লীর যন্তর মন্তরে NEET পরীক্ষার প্রশ্ন লিক হওয়ার বিরুদ্ধে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবীতে চলমান অহিংস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং অনশন আন্দোলনের বাস্তব পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে খবর করার জন্য গত ২রা ও ৩রা জুলাই দিল্লী গিয়েছিলেন প্রতিরোধের গণমাধ্যম “দি ডিগ্রোথ” সংবাদ ওয়েব পোর্টাল-এর বার্তা সাংবাদিক (News Journalist) শ্রী তাপস কুমার বিশ্বাস এবং ছবি সাংবাদিক (Photo Journalist) শ্রী বিজয় চক্রবর্তী। তাদের দেওয়া খবর ও ছবি থেকে আমরা জানতে পারবো সেখানে কি ঘটে চলেছে।

CJP 29

কোথাও

"ধর্মেন্দ্র প্রধান, গদ্দি ছোড়ো "

কোথাও দেখা গেল -

"পেপার লিক কর গয়া বান্দা

বাল নরেন্দার, বাল নরেন্দার"

কোথাও একদল ছাত্র ছাত্রী একটি প্রতীকী শবদেহ বানিয়ে, শিক্ষামন্ত্রীর মৃত্যু শোক পালন করে সেই প্রতীকী দেহকে খাটিয়ায় রেখে চার কাঁধে তুলে মিছিল করছে ঘুরে ঘুরে আর স্লোগান দিচ্ছে, "শিক্ষামন্ত্রী মর গয়ে, শিক্ষামন্ত্রী মর গয়ে"।

যন্তর মন্তরে security frisking ও bag scanning করে গন্তব্যে পৌঁছে চোখে পড়বে আন্দোলনে প্রতিবাদে মুখর এক "মিনি ইন্ডিয়া"। নেতৃত্বে যুব সব বয়সের ছাত্র ছাত্রী, সব রঙের, সব ভাষার ও সব ধর্মের। সবার হাতেই নিজ নিজ ঝাণ্ডার সাথে জাতীয় পতাকা। দেশ ও দেশবাসীর ওপর ভরসা আজও অটুট। তবে দেশের সরকারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস কবেই ভেঙ্গে চুর চুর।

বছরের পর বছর শান্তিকামি দেশের যুবককে স্বপ্ন দেখিয়ে তারপর তিলে তিলে সেই স্বপ্নগুলোকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে যখন ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়া হয় তখন পুঞ্জীভূত হয় ক্ষোভ আর সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ অপেক্ষায় থাকে কেবল একটি স্ফুলিঙ্গের।

CJP 16

দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রধান, যার ওপর সারা দেশ তাকিয়ে থাকে অন্যায়ের বিচারের অপেক্ষায়, দেশের বিভ্রান্ত হতাশ ও নিপিড়িত যুবাদের প্রতি সেই মহামহিমের অবজ্ঞা ভরা উক্তি, "যারা কথায় কথায় সিস্টেমকে আক্রমণ করে তারা প্যারাসাইট ও ককরোচ।" যোগান দেয় সেই অগ্নি স্ফূলিঙ্গের। আগুন জ্বলে ওঠে প্রতিবাদ আন্দোলনের, গেয়ে ওঠে, "হাম দেখেঙ্গে, লাজিম হ্যায় কে হাম ভী দেখেঙ্গে। "

দেশ দুনিয়ার যুবক নিজেদের আরশোলা বলে ঘোষনা করে প্রতিবাদ করে প্রথমে ভার্চুয়াল মিডিয়ায়। অভূতপূর্ব সারা পরে। সেই প্রতিবাদ বাস্তবের পথে নামে যেদিন এক প্রবাসী যুবক বিদেশের সব সুখ স্বাছন্দ ও সুরক্ষিত জীবন ছেড়ে দেশের মাটিতে পা রাখে হাতে নিয়ে কেবলমাত্র ভারতীয় সংবিধান, কারণ ভারতের সংবিধানের ওপর তার ভরসা অটুট। আর বুকে নিয়ে অদম্য সাহস ও আত্মবিশ্বাস, হয়তো কিছুটা হলেও যার অভাবে আজ অনেকেই ভুগছে ও ভয় পাচ্ছে।

CJP 4

গত মাসের ১৮ই জুন তারিখ থেকে দেশের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তরে শুরু হয় অহিংস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলন।

গত ২৮এ জুন থেকে বিজ্ঞান ও পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াঙচুকের নেতৃত্বে শুরু হয় আমরণ অনশন যার আজ অষ্টম দিন।

প্রতিরোধের গণমাধ্যম “দি ডিগ্রোথ” সংবাদ ওয়েব পোর্টাল; বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন (Ecological Solidarity Movement); পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন পরিবেশ বান্ধব মঞ্চ বারাকপুর; এবং বৃহত্তর সংগঠন বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি জোট ও অন্যান্য সকল পরিবেশ ও সমাজ কর্মীদের পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা নিয়ে ছুটে যাওয়া সেই অমৃত কুম্ভে, ছুঁতে, কায় মন বাক্যে উপলব্ধি করতে সেই প্রতিবাদের উত্তাপকে ও প্রতিবাদের সেই মশালকে। যা জ্বালায় না, আলোকিত করে আশু কর্তব্যের পথ।

CJP 13

বিদেশ থেকে funding, দেশের উন্নয়নের প্রতিরোধের বিদেশী হাত। না হলে কোনো sponsor ছাড়া কেউ হঠাৎ করে বিদেশ থেকে আসে আন্দোলন করতে? নিশ্চয়ই কোনো রাজনৈতিক দলের back up বা B team বা RSS/BJP sponsored হবে। দেশের যুবকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে vent out বা চাপমুক্ত করতে। এমন সব মতামতের মধ্যে কিছু অবিশ্বাস কিছু সন্দেহকে সাথে নিয়ে বিজয়ের সাথে গিয়ে পৌছালাম গন্তব্যে। কারণ, সন্দেহের নিরশন দূর থেকে সব সময় হয় না। অপর একটি কারণ ছিল যেটা জীবনের অনেকটা সময় উত্তর ভারতে থেকে গ্রাসরুটের মানুষগুলির সাথে মেশার অভিজ্ঞতায় হয় সবার। আন্দোলনের ডাকে সারা দেয় যারা তাদের বেশিরভাগই সৎ সাহসী ও নিঃস্বার্থ হয়। নেতৃত্বের উদ্দেশ্যের সাথে মিল থাকতেও পারে আবার না থাকতেও পারে।  একটাই দাবী দেশের শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

CJP 19

দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিশেষ করে সকল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলির অংশগ্রহণ। যারা এই একটি "কমন দাবীতে" ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP র সাথে যৌথতায় আন্দোলনে সামিল হয়েছে এবং আমরণ অনশন সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করছে। এই স্টুডেন্ট সংগঠনগুলির আরও দাবী আছে ও গত সাত বছর ধরে আছে, new education policy withdraw ও scrap NTA (National Testing Agency ) ইত্যাদি। সেগুলি চলছে এবং চলবে।

যন্তর মন্তরে একটি মাত্র দাবী, "শিক্ষা মন্ত্রী গদ্দি ছোড়ো"। বলল, জহরলাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংগঠনের নেত্রী অদিতি। অদিতি অনশন করছে না আপাতত তবে শুরু থেকেই অবস্থানে আছে। অদিতি সোশ্যাল সায়েন্স এর ছাত্রী ও পিএইচডি করছে। জিজ্ঞেস করলাম যে এই আন্দোলনের আগামী দিন কেমন দেখছো, "আমি সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্রী। এখানে এসে দেখছি যে মানব সমাজ কত রকম ভাবে অসুবিধায় জর্জরিত। তারা তাদের কথা বলার তেমন জায়গা পাচ্ছিল না ক্ষোভ ব্যক্ত করার। এই মঞ্চ তাদের সেই জায়গা প্রদান করেছে। কত রকম ভাবে তারা তাদের কথা বলছেন। আমরা শুনছি, দেখছি ও শিখছি।

CJP 23

AISA র সভাপতি নেহা শর্মা অনশনের কারণে খুব কম কথা বলছে। তবে আমার কথা মন দিয়ে শুনেছে। নেহা, দানীশ, মনীষ, ঋষিকেশ, দীপক ও আমিন AISA র পক্ষে ছ জন ভুখ হরতাল করছে। এখানে উল্লেখ করি যে, AISA র অনশন বেশ ছোট ও অতি সাধারণ। প্রধান মঞ্চের বাইরে। প্রধান মঞ্চে অনশন করছেন সোনমজী। ওটিই প্রধান প্রচার মঞ্চ। ইনেশ নামে একটি তিরিশ বছরের যুবক শুধু অনশনই করছে না, মৌন্যব্রতও পালন করছে বোবা সরকারের প্রতিবাদে। সে প্রশ্নের উত্তর কাগজে লিখে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের পৌঁছানোর আগেই।

অনতি দূরে মাটিতে একটি ধর্ণা ও অনশন স্থল। ওটি সাধারন ছাত্র ছাত্রীর ধর্ণা স্থল। সারা দেশ থেকে একজন দুজন করে ছাত্র বা ছাত্রীরা এখানে এসে এক ছোট্ট যুব ভারত সৃষ্টি করে রয়েছে। কেউ এসেছে মধ্য প্রদেশ থেকে, কেউ হিমাচল, কেউ তামিলনাড়ু ও কেউ বিহার উত্তর প্রদেশ রাজস্থান হরিয়ানা থেকে। প্রায় ছল্লিশ জন অবস্থান আন্দোলন করছে। যার মধ্যে নয় জন হাম্মাদ, স্বতন্ত্র, আদিত্য, রাহুল, রবি, উজ্জ্বল, শ্রীকৃষ্ণ, নীতিশ ও নরেন্দ্র আমরণ অনশন করছে।

NEET প্রশ্ন লিক হওয়ার ফলে আশাহত ২২ জন আত্মহনন করে। এখানে আমরণ অনশনে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে কোনোরূপ দ্বিধায় নেই। প্রশ্নের উত্তর একই, লড়ে মরবো। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যদি মৃত্যু আসে তো আসুক। স্টেজে আসফাক উল্লার গান বাজছে, "সরফরোসী কি তামান্না আজ হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু এ কাতিল মে হ্যায় "।

CJP 30

একটু দূরে ফ্রি চা সিঙ্গারা দিচ্ছেন জুনেদ ভাই ও তার সাথীরা। জুনেদ ভাই মূলত বিগত দুই সপ্তাহের বেশি দিন ধরে সবাইয়ের খিদে মেটানোর দায়িত্ব স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছেন। তার funding কোথা থেকে আসছে সেটা দেখার দায়িত্ব সন্দেহ প্রবন তথাকথিত দেশ ভক্তদের ওপর থাক। উনি আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন অভিজিৎ ও সোনমজীর কাছে আমাদের সংহতি বার্তার চিঠি, নিকোবর নিয়ে thedegrowth প্রকাশিত বই “The Last Island” এবং বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন (Ecological Solidarity Movement)-এর ইস্তাহার/ম্যানিফেস্টো পৌঁছে দিতে। SFI দিল্লীর ঐশী ও সুরজ সর্বতো ভাবে সহযোগিতা করে আমাদের। তাদের ও সহযোগিতা সবাইকে আমাদের ভালোবাসা।

ESM - SOLIDARITY - CJP - DELHI - 01.07.2026

এই নিদারুন গরমে নিদ্রিত আন্দোলনকারীদের সারা রাত ধরে হাত পাখা করে হাওয়া দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এক বয়স্ক মুসলিম ভাই। তার অপর হাতে national flag, তিরঙ্গা। বলছেন ইয়ে দেশকি "আন বান অউর শান" (Dignity, Tradition and Glory) হ্যায়। জনৈকা সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে উনি বলেন যে, "এই আন্দোলনকারীদের যে সরকার বিদেশের B টীম বলছে, আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই যে, এরা B টিম যদি হয় তাহলে ঘোষণা করুন যে, A টিম কে?"

এক ছোট্ট পাঞ্জাবী ছেলে, যে ক্লাস সিক্সে পড়ে, তাকে এক মোবাইল সাংবাদিক বলছে,

"ভাই বাচ্চা সর্দার, তুমি কি NEET দেবে?"

"না আমি আর্মিতে যাবো"।

"তাহলে এখানে সবাইকে চা জল পরিবেশন করছো কেন?

"ইয়ে তো হামারা ইনসানিয়ত হ্যায়। ইসমে ছোটে বরে হোতে হ্যায় কেয়া?"

হেঁসে প্রশ্ন, "তোমার test তো দেরি আছে"।

বাচ্চা সর্দার, "তো কেয়া ? ওহ ভী তো পেপার হ্যায়, লিক হো গয়া তো?"

CJP 1

এক জায়গায় একটি পরিবার নাগপুর থেকে এসে অবস্থান করছেন। সাথে তিন বছরের মেয়ে। মেয়েটির মা বলছেন, "আমার মেয়েও বড় হবে, একদিন পরীক্ষায় বসবে। যে ছেলে মেয়েরা মায়ের কোল খালি করে চলে গেল তারা আমারও মেয়ে। এটা আমারও কর্তব্য। "

এমন ছোট ছোট প্রতিবাদ ও ক্ষোভের শান্তিপূর্ণ, নির্বাক অবস্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এরা হয়তো আগে কখনোই কোনোরূপ আন্দোলনে সামিল হয় নি। কিন্তু সবাই প্রায় সবকিছু জানে। আজ সবারই সহনশীলতার ভাঙন ধরেছে ২২ জন তরতাজা প্রাণের অকাল প্রয়ানে। সবারই একই দাবী সিস্টেম ঠিক করো। যে কাজ করার জন্য গদিতে বেসেছো, সেই কাজে সার্বিক ব্যর্থতার দায় নাও নয় তো গদি ছাড়ো।

CJP 2

কারও কারও বক্তব্য আমরাও জানি যে এক মন্ত্রীর পদত্যাগ তেমন কোনো তফাৎ করে দেবে না। কিন্তু ২০১৪ র পর এই সরকার এমন এক নজির স্থাপন করার চেষ্টা করে আসছে যে, তারা যা করছে সঠিক ভাবেই করছে। তাই জবাব দেয়ার প্রয়োজন কি? সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের রক্ষামন্ত্রী বলছে, আগের সরকার ভুল করতো তাই জবাবদিহি করতো। আমরা সব ঠিক করছি তাই জবাবদিহি আবার কি? এটা স্বৈরাচারের সেই ভাষা যে ভাষা বলে, আমি তো এমনভাবেই মারবো। দেখি তুমি কি করতে পারো।

সারদাজী যেমন বললেন। এদের কাছে ১.৪ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে কেবল ১০% এর অস্তিত্ব আছে। আর বাকিটা এদের চিন্তায় exist করে না কারণ তারা already বিলুপ্ত। আর আপনারা নিকোবারের turtle, trees আর crocodile etc. নিয়ে কথা বলতে চাইছেন।

আন্দোলনরত ছাত্রী তাই বলছে যে, "dharmendra Pradhan-এর ইস্তফা at least এই accountability fix করার প্রক্রিয়ার পুনরায় শুরু তো হোক, যেটা ২০১৪ পর কোনো সময়েই হয় নি। কিন্তু তার আগে হতো atleast?" আর আজ খবর, অনশনের সপ্তম দিনে sugar level below 44 হয়ে যাওয়ায় দানিসকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দেশের সরকার হিন্দু মুসলমান আর পাকিস্তান যখন করে ধর্ম বর্ণ ও জাতের ভেদাভেদ ঘটিয়ে গদি দখল করছে, তখন যন্তর মন্তরে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও মৌলবি হাতে হাত ধরে তিরঙ্গা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নামাজ রত মুসলিম ভাইকে হাত পাখা দিয়ে হাওয়া দিচ্ছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। শিখ ও মুসলিম গুরনাম সিং ও জুনেদ ভাই একসাথে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছেন।

CJP 36

সংগঠনের পক্ষ থেকে সংহতি চিঠি ও বুকলেট CJP-র অভিজিৎ দীপকে, সোনম ওয়াঙচুক জীকে দেয়া। সোনমজী নিকোবর নিয়ে লেখা “The Last Island” বইটি পড়তে শুরু করলেন। বিজয়কে ইশারায় ফোন নাম্বার চাওয়ায় বিজয় বইতে আছে জানালো।  অভিজিতের সাথে দেখা করে সাথে আছি ও কলকাতায় আসুন বলে বাকি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে আমাদের নিকোবর ও ম্যানিফেস্টো বুকলেট দেয়া, যেমন AISA র মনিশের হাতে, জুনেদ ভাইকে, একজন মাদ্রাসী ছাত্রকে, AICC অফিসে, আমাদের সাথী ও বন্ধু সারদাজীকে দিয়ে কথা বলে ৩ তারিখ সন্ধ্যায় যখন যন্তর মন্তর থেকে বেরোলাম, ছেড়ে আসতে মন চাইছিল না। ফেরার আগে AISA র নেহা ও অদিতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাম।

CJP 10

বিজেপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে CJP র পক্ষ থেকে। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগন আসছেন। শুনলাম অন্ধ্র প্রদেশের অমরাবতী থেকে এক কংগ্রেস MP এসেছিলেন।

নানান কথা ও নানান ভাবনা নিয়ে বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য, যা ভারতের ভারতীয়তা বা ভাষান্তরে "Idea of India" নামক মূল মন্ত্র, তাকে সরকার যতই ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুক, সেটি যে দেশবাসী ভোলে নি সেই ঐক্যর যে প্রদর্শনী এই আন্দোলনে দেখলাম বা একই আন্দোলনে বহু আন্দোলনের রূপ দেখে বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে যখন ফিরছি, ভিতরে স্টেজে বেজে উঠেছে, মোহাম্মদ ইকবালের লেখা বিখ্যাত সংগীত "মজহব নেহী শিখাতা, আপস মে বৈর রখানা", "সাড়ে জাহাঁ সে আচ্ছা, হিন্দুস্তা হামারা"।

আলোচনা 1 comment

উত্তর দিচ্ছেন
anonymous
anonymous 08/07/2026 18:09
এমন ঐক্য ও সংহতির মেলবন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য!
আমাদের লক্ষ্য

আমরা নিজেদেরকে “প্রতিরোধের গণমাধ্যম” হিসেবে দেখি।

জীবের বহুসংকটকে, জীবের বহুদুঃখকে আমরা মধ্যমপ্রতিপদের অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করি, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, এবং বৃহত্তর বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি আন্দোলন ও বাস্তুতান্ত্রিক সংহতি জোটের সাথে হাত মিলিয়ে তাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

যোগাযোগ করুন

ইমেল: thedegrowthofficial.com